
শেষ আপডেট: 12 October 2023 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জল-বিদ্যুৎ-খাবার বন্ধ হয়ে গেছিল আগেই। বুধ সন্ধ্যাতেই জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে গাজার শেষ বিদ্যুৎকেন্দ্রেরও। ফলে আক্ষরিক অর্থেই অন্ধকারে ডুবে গেছে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী এই ভূখণ্ড। ইজরায়েলের অবরোধের ফলে সেখানে অমিল ওষুধ, নেই বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। রাতারাতি যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে গাজা। তার মধ্যেই ইজরায়েলের শক্তিমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, যতক্ষণ না গাজা সমস্ত যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দিচ্ছে, ততক্ষণ সেখানে ন্যূনতম মানবিক পরিষেবাটুকুও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি রেড ক্রসের তরফে আর্জি জানানো হয়েছিল, ইজরায়েল অন্তত জ্বালানিটুকু যেন পৌঁছাতে দেয় গাজাতে। তা না হলে সেখানকার বাসিন্দাদের বেঁচে থাকা মুশকিল হবে, ইতিমধ্যেই হাসপাতালগুলি লাশকাটা ঘরে পরিণত হয়েছে। তার জবাবে শক্তিমন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, 'গাজায় মানবিক পরিষেবা? কোনও আলো জ্বলবে না, কোনও জলের কলের ট্যাপ খোলা হবে না, কোনও জ্বালানি ট্রাক ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে না যতক্ষণ না অপহৃতরা সকলে ঘরে ফিরছে।'
শনিবারের অতর্কিত হামলার পর অন্তত ১৫০ জন ইজরায়েলি, বিদেশি এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা মানুষকে অপহরণ করেছে গাজার হামাস গোষ্ঠী। তারপরেই পাল্টা আক্রমণে নামে ইজরায়েল। তারা শপথ নিয়েছে, গাজাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। বুধবারই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রীতিমতো হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছিলেন, গাজা আর কোনওদিনই আগের অবস্থায় ফিরবে না।
ইজরায়েল-হামাস সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত দু-পক্ষের মোট মৃতের সংখ্যা ৩০০০ ছাড়িয়েছে। গাজার প্রসাশন জানিয়েছে, তাদের দেশে আহত অন্তত ৫ হাজার মানুষ। তার মধ্যেই ইজরায়েলের সার্বিক অবরোধের জেরে গাজায় হাসপাতালগুলিতেও জ্বালানি নেই। জেনারেটর চলছে না, সদ্যোজাত শিশুদের জন্য ইনকিউবেটর অন করা যাচ্ছে না, অক্সিজেন দেওয়া যাচ্ছে না বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের। বন্ধ ডায়ালিসিস, এক্স-রে। এই পরিস্থিতিতে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ দ্য রেড ক্রসের রিজিওনাল ডিরেক্টর ফ্যাব্রিজিও কার্বনি অন্তত জ্বালানি সহায়তাটুকু দিতে বলেছিলেন ইজরয়েলকে। কিন্তু তার জবাবেই শক্তিমন্ত্রী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'মানবতাবাদ মানুষের জন্য প্রযোজ্য। কেউ যেন আমাদের নীতি-নৈতিকতা শেখাতে না আসে।'