
টিউলিপ সিদ্দিক ও কিয়ার স্টারমার
শেষ আপডেট: 15 January 2025 09:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্নীতির অভিযোগের নৈতিক দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। সম্পর্কে তিনি শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে। সেই কারণে টিউলিপের পদত্যাগ ঝড় তুলেছে বাংলাদেশে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস উইং প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার বেশি রাতে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, টিউলিপ-সহ শেখ হাসিনার পরিবার যে অর্থ তছরুপ এবং বিদেশে পাচার করেছে তা উদ্ধার করার সব ধরনের চেষ্টা চালানো হবে।
যদিও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মঙ্গলবার রাতেই টিউলিপকে লেখা চিঠিতে তাঁকে ক্লিনচিট দিয়ে লিখেছেন, ‘আমাদের তদন্তে আপনার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের অনিময়, দুর্নীতির অভিযোগ মেলেনি। আপনার জন্য মন্ত্রিসভার দরজা খোলা।’ স্বভাবতই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর টিউলিপকে লেখা চিঠির বক্তব্য বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হল। বিশেষ করে মিডিয়ার লেখালেখির ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার যে ভাবে মঙ্গলবার রাতে তড়িঘড়ি টিউলিপ ও হাসিনার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে তার বড় ধাক্কা খেল।
স্যার কিয়ার স্টারমার লিখেছেন, ‘আমি গভীর দুঃখের সঙ্গে আপনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করছি। আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই যে আমার সরকারের স্বাধীন উপদেষ্টা (ইনডিপেনডেন্ট অ্যাডভাইজার অন মিনিস্ট্রিয়াল স্ট্যান্ডার্ডস) লাউরি ম্যাগনাস আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি আপনার (টিউলিপ) দিক থেকে মন্ত্রিত্বের বিধির (মিনিস্ট্রিয়াল কোড) কোনও রকম লঙ্ঘন করেননি। আপনার বিরুদ্ধে কোনও আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাননি তিনি।’
মঙ্গলবার রাতে টিউলিপ ব্রিটেনের সিটি মিনিস্টারের (ইকোনমিক সেক্রেটারি টু দ্য ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টার) পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড অ্যান্ড হাইগেট কেন্দ্র থেকে টানা চতুর্থবার লেবার পার্টির এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার তাঁর আস্থাভাজন টিউলিপকে এবার মন্ত্রিসভায় নেন।
টিউলিপের বিরুদ্ধে মূলত দুটি অভিযোগ নিয়ে সরব ব্রিটেনের বিরোধী দলগুলি। একটি হল, বাংলাদেশে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে তিনি ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ। ওই প্রকল্পে রূপায়ণ করছে রাশিয়ার একটি সরকারি সংস্থা। অভিযোগ ওই সংস্থাকে প্রকল্পটি পাইয়ে দিতে মাসি শেখ হাসিনার কাছে দরবার করেছিলেন টিউলিপ। সেই কারণে চুক্তি সম্পাদনের সময় মস্কো সফরে তিনি টিউলিপকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। রাশিয়ার সংস্থাটি অবশ্য ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন।
টিউলিপের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগটি লন্ডনে বিনামূল্যে ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগ। শেখ হাসিনার সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি আওয়ামী লিগ নেতার কাছ থেকে বিনামূল্যে ফ্ল্যাট নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
সেই ফ্ল্যাট নিয়েও ক্লিন চিট পেয়েছেন হাসিনার বোনঝি। লন্ডনের বিতর্কিত ফ্ল্যাটটিতে টিউলিপ সিদ্দিক এক সময় বাস করতেন। মন্ত্রীদের নৈতিক মানদণ্ড যাচাইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাধীন উপদেষ্টা লাউরি ম্যাগনাস প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে লেখা চিঠি বলেছেন, ওই ফ্ল্যাটের বিষয়ে টিউলিপ সিদ্দিক কিছু জানতেন না। এক আত্মীয় ফ্ল্যাটটি দিয়েছিলেন। সেটির প্রকৃত মালিক সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। একইভাবে ম্যাগনাস রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে হাসিনার বোনঝির যুক্ত থাকার অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন।