নেপালি কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল এবং কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)-এর মতো পুরনো দল গুলি শুধু লড়াই আছে তাই নয় তারা নবীন প্রজন্মের দাবি মেনে নেতৃত্বের তেমন কোন পরিবর্তন আনেনি। ক্ষমতারচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ৭৫ বছর বয়সি কেপি শর্মা ওলিকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করেছে তাঁর দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)। তিনি ওই দলের সাধারণ সম্পাদক।

শেষ আপডেট: 4 March 2026 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গণঅভ্যুত্থানের পর এখনও ছ'মাস কাটেনি। তার আগেই নির্বাচনের ব্যবস্থা করে কথা রাখলেন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি। বৃহস্পতিবার নেপালের ২৭৫ আসনের প্রতিনিধি সভার নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হবে। এর মধ্যে ১১০ জন সরাসরি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হবেন। বাকি ১১০ জনকে বেছে নেওয়া হবে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত আসন ও ভোটের অনুপাতের ভিত্তিতে। সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৪০৬ জন প্রার্থী। পরোক্ষ নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা ৩১৩৫ জন।
গত বছর সেপ্টেম্বরের গোড়ায় গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। প্রধানমন্ত্রীর বাংলো থেকে তাঁকে পালাতে হয়েছিল। তিনি নিরাপদ আশ্রয় পৌঁছতে পারলেও তাঁর অনেক মন্ত্রী গুরুতর পরিস্থিতির মুখে পড়েন। সেই আন্দোলনের মূল কারিগর ছিল নবীন প্রজন্ম বা জেএন-জি। দেশব্যাপী দুর্নীতি, অনাচারের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম রাজপথে নেমে আসে তখন। শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের পর নেপাল ছিল উপমহাদেশের তৃতীয় দেশ যেখানে নির্বাচিত সরকারকে জন বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা থেকে উৎখাত হতে হয়। 
পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের মতো নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌড়েল জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। নেপাল সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার দেন। বাংলাদেশে যেমন মহম্মদ ইউনুসকে অভ্যুত্থানকারী নবীন প্রজন্ম প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে চেয়েছিল, নেপালেও সুশীলা কার্কির নাম উত্থাপন করে আন্দোলনকারীরা। দায়িত্ব নিয়েই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন তিনি মার্চ মাসে নির্বাচন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেবেন। সেই মতো ছয় মাস পূরণ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার নেপালের ভোট গ্রহণ হতে চলেছে। সে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, রামপ্রসাদ ভাণ্ডারী বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে জানিয়েছেন, ১৮ কোটির কিছু বেশি মানুষ এবার ভোট দেবেন। তাঁর আশা ভোটদানের হার অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে। কারণ ভোট দান নিয়ে এবার সাধারণ মানুষকে অনেক বেশি সচেতন করা হয়েছে।ওয়াকিবহাল মহল বলছে নেপালের এই নির্বাচন আরও একটি কারণে ঐতিহাসিক হতে চলেছে। তা হল দেশটির পুরনো রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে এবার মুখোমুখি লড়াই হতে চলেছে জেন জি'দের।
নেপালি কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল এবং কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)-এর মতো পুরনো দল গুলি শুধু লড়াই আছে তাই নয় তারা নবীন প্রজন্মের দাবি মেনে নেতৃত্বের তেমন কোন পরিবর্তন আনেনি। ক্ষমতারচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ৭৫ বছর বয়সি কেপি শর্মা ওলিকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করেছে তাঁর দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)। তিনি ওই দলের সাধারণ সম্পাদক।
প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ময়দানে আছেন আর এক সাবেক প্রধানমন্ত্রী নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ড। অভ্যুত্থানকারী তরুণেরা পুরনো দলগুলিকে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মাধ্যমে নবীনদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু অনেক দলই তাতে কর্ণপাত করেনি।
তবে নেপালের আর একটি জনপ্রিয় পুরনো দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি এবার কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র ৩৫ বছর বয়সি বালেনকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী করেছে। গণঅভ্যুতনে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। বস্তুত তিনি হয়ে উঠেছিলেন অভ্যুত্থানের মুখ। অন্যদিকে সবচেয়ে প্রাচীন দল নেপালি কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী করেছে ৪৯ বছর বয়সি গগন থাপাকে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই সুশীলা কার্কি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের পথে হাঁটবেন না। অভ্যুত্থানকারী নবীন নেতৃত্ব বারে বারে তার কাছে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি জানালে তিনি তাদের সাফ জানিয়ে দেন একমাত্র নির্বাচিত সরকারি এই কাজ করতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন সম্পন্ন করে দিয়ে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। এই ৬ মাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলতে বেশ কয়েকটি দল নবীর নেতৃত্বের দাবি মেনে কম বয়সিদের দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং কর্মসূচিকে ছাপিয়ে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে বয়স। প্রবীণ কেপি শর্মা ওলিকে জেন-জি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারলেও নির্বাচনে তাঁকে হারাতে পারবে কিনা তা নিয়ে তুমুল কৌতুহল রয়েছে নেপালের বাইরেও। বাংলাদেশে অভ্যুত্থানকারী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত সে দেশের রাজনীতিতে খুব বড় ভাবে দাগ কাটতে পারেনি। তারা জাতীয় নাগরিক পার্টি নামে রাজনৈতিক দল করলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে মাত্র ছ'টিতে জয়লাভ করেছে। জামাতের সঙ্গে জোট ছাড়া তারা একটি আসনেও জিততে পারত কিনা সংশয় আছে। নির্বাচনের ফলাফল বলছে, হাসিনা সরকারের পতনে গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের সমস্ত শ্রেণি পেশার মানুষ ময়দানে নামলেও দেশ পরিচালনার প্রশ্নে নবীনদের তেমন একটা গুরুত্ব দেয়নি সে দেশের ভোটাররা। এখন দেখার নেপালে কী হয়।