তিন দিন আগে ফেসবুক (Facebook), এক্স (X)-সহ একাধিক প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাতে ২০ জন নিহত, ৩০০-র বেশি আহত হয়েছেন পুলিশি গুলিতে।

সোশ্যাল মিডিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলল নেপাল সরকার
শেষ আপডেট: 9 September 2025 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল ছাত্র-যুব বিক্ষোভে নেপাল সরকার (Nepal Govt) অবশেষে পিছু হঠল। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ( KP Sharma Oli) নেতৃত্বাধীন প্রশাসন সোমবার গভীর রাতে জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ার (Nepal Social Media Ban) উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তিন দিন আগে ফেসবুক (Facebook), এক্স (X)-সহ একাধিক প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাতে ২০ জন নিহত, ৩০০-র বেশি আহত হয়েছেন পুলিশি গুলিতে।
প্রথমে অনলাইনে প্রতিবাদ শুরু হলেও দ্রুত তা রূপ নেয় গণ-আন্দোলনে। রাজধানী কাঠমান্ডুর (Kathmandu) সংসদ ভবনের সামনে থেকে শুরু করে দেশের নানা প্রান্তে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী রাস্তায় নামে, অনেকেই স্কুল-কলেজের পোশাকে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলে— “দুর্নীতি বন্ধ কর, সামাজিক মাধ্যম নয়”, “আমাদের কণ্ঠস্বর বন্ধ করা চলবে না”
প্রথমদিকে প্রধানমন্ত্রী ওলি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “জেন জি (Gen Z) ঝামেলাবাজদের কাছে মাথা নোয়াব না।” এমনকি তিনি ঘোষণা করেছিলেন— “প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়লেও আমি সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ রাখব।”
কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায়। তীব্র চাপে পড়ে জরুরি বৈঠক ডাকে মন্ত্রিসভা। সেই বৈঠকেই তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অনড় অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে মন্ত্রিসভায় কংগ্রেস দলের মন্ত্রীরা ওয়াকআউট করেন। অন্য দিকে, বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক নৈতিক দায় স্বীকার করে ইস্তফা দেন।
কাঠমান্ডু-সহ একাধিক শহরে কার্ফু জারি হয়। ভারত সীমান্তবর্তী ভৈরহাওয়াতেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। উত্তরপ্রদেশের সীমান্ত জেলাগুলিতে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
যদিও আন্দোলনকে ‘জেন জি বিপ্লব’ বলা হলেও, এতে শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, মিলেনিয়াল থেকে প্রবীণরাও যোগ দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এটা শুধু সোশ্যাল মিডিয়া খোলার লড়াই নয়, এটা দীর্ঘদিনের দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলন।”
গত ২৮ অগস্ট নেপাল সরকার জানিয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়াগুলি পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সরকারের খাতায় নাম নথিভুক্ত করাতে হবে। ৩ অগস্ট সেই সময়সীমা শেষ হয়। অধিকাংশ সোশ্যাল মিডিয়াই নেপালের সরকারি নির্দেশ মানেনি। ৪ অগস্ট ফেসবুক, এক্স, হোয়াট্সঅ্যাপ-সহ ২৬টি অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
দেশের যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভের আঁচ পেয়ে আগেই নেপালের নানা অংশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করেছিল সে দেশের সরকার। তবে টিকটক নিয়ে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় সেটির মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়ে তোলেন প্রতিবাদীরা।