
করাচির পথঘাট। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 26 June 2024 20:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের পথেঘাটে উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক লাশ! জানা যাচ্ছে না কারও পরিচয়, জানা যাচ্ছে না মৃত্যুর সঠিক কারণও। সংখ্যাটা ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে ২২-এ। পাকিস্তানের করাচি শহরে এই লাগাতার অপমৃত্যুর ঘটনায় চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে সরকারের তরফে।
করাচির স্থানীয় প্রশাসন সূত্রের খবর, গত কয়েক দিনে শহরের বেশ কয়েকটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে বিভিন্ন এলাকা থেকে। মঙ্গলবার ফের নতুন পাঁচটি দেহ উদ্ধার হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২-এ। এই নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে করাচির বিভিন্ন প্রান্তে। কী কারণে এই অপমৃত্যু, তা খুঁজে বার করতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসনও।
পাক সংবাদ সংস্থা জিও নিউজ সূত্রের খবর, যে ২২ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে, তাঁদের মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। কারও পরিচয়ও জানা যায়নি। তবে মৃতদের মধ্যে তিন জনের শরীরে মাদক পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেশ কিছু মাদক ক্ষতিকর থাবা বসিয়েছে। সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন। সেই মাদকের অতিরিক্ত ডোজও মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে অনুমান।
তবে এখনও পর্যন্ত সন্দেহের জোরালো তির তাপপ্রবাহের দিকেই। উত্তর ভারতের মতোই পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়েও ভয়ানক গরমের প্রকোপ পড়েছে। করাচিতে চলছে একটানা তাপপ্রবাহ। সেই কারণেই ওই ২২ জনের মৃত্যু হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
ছিপা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নামে পাকিস্তানের এক এনজিও প্রথম খুঁজে বার করে এই বিক্ষিপ্ত লাশগুলি। তারাই জানিয়েছে পুলিশকে। সেই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খুবই অদ্ভুত। প্রচণ্ড গরমের কারণে করাচিতে গত চার দিনে অন্তত ৪৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তিও রয়েছেন অনেকে। বেড-ক্রাইসিস শুরু হয়েছে, মর্গেও জায়গা নেই। কিন্তু এই ২২ জন মারা গেছেন সকলের চোখের আড়ালে, মরে পড়েছিলেন পথে। সকলেই অজ্ঞাতপরিচয়, ভবঘুরে। কোনও লাশ এখনও কেউ শনাক্ত করতে আসেনি।