শনিবার ইরানের হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানে থাকা আমেরিকান কনস্যুলেট (American Consulate) হামলা চালাল উন্মত্ত জনতা।

পাকিস্তানের আমেরিকান কনস্যুলেটে হামলা চালাল উন্মত্ত জনতা
শেষ আপডেট: 1 March 2026 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের ওপর ইজরায়েল (Israel) ও আমেরিকার (America) যৌথ হামলার আঁচ এসে পড়ল পাকিস্তানেও (Pakistan)। শনিবার ইরানের হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানে থাকা আমেরিকান কনস্যুলেটে (American Consulate) হামলা চালাল উন্মত্ত জনতা। কনস্যুলেটের ভেতরে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভকারীরা ভবনের একাংশে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর মিলেছে। ঘটনায় নিরাপত্তাবাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের মাঝে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে এবং আরও অনেকে আহত হয়েছে বলে প্রয়োজনীয় সূত্রে জানা গেছে।
কনস্যুলেটে তাণ্ডব
ইরানে বিমান হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হয় এবং নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। জনতা ভবনের ভেতরে ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। কনস্যুলেটের কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা নিজেদের বাঁচাতে নিরাপদ স্থানে সরে যান।
অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি
এই ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় কনস্যুলেটের কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাকিস্তান সরকার চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর এই তাণ্ডব কঠোর হাতে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আরবদুনিয়ায় যুদ্ধের প্রভাব যে দক্ষিণ এশিয়ায় কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা তার ইঙ্গিত বহন করছে।
মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় মৃত্যু হয়েছে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। তারপরই মার্কিন-ইজরায়েলি ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে ইরান। সেই উত্তেজনার আবহে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump warning to Iran)।
রবিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরান যদি কোনও পাল্টা হামলার পথে হাঁটে, তা হলে যুক্তরাষ্ট্র এমন সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে (US Iran conflict threat military force) “যা আগে কখনও দেখা যায়নি।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানের পর পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষিতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরান “খুব জোরালোভাবে” পাল্টা আঘাত হানতে পারে, এমন খবরের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। তবে সেই সঙ্গে সতর্কবার্তাও দেন তিনি। ট্রাম্পের কথায়, “এমন কিছু না করাই ওদের জন্য ভাল। কারণ যদি করে, তা হলে আমরা এমন শক্তি দিয়ে আঘাত হানব, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।”
ইরানের তরফেও আগেই ইঙ্গিত মিলেছে যে তারা আগের হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বারবারই আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপকে সঠিক বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সম্ভাব্য হুমকি নস্যাৎ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।