Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
I PAC: ৫০ কোটির বেআইনি লেনদেন, আই প্যাক ডিরেক্টর ভিনেশের বিরুদ্ধে ৬ বিস্ফোরক অভিযোগ ইডিরWest Bengal Election 2026 | ‘৫০-আসন জিতে তৃণমূলকে ১৫০-আসনে হারাব’ মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ

অপরাধীদের চিনে রাখুন, মিনাবের স্কুলে হামলায় অভিযুক্ত দুই মার্কিন নৌ-অফিসারের নাম প্রকাশ করল ইরান

ইরানের অভিযোগ, এই দুই অফিসার তিন দফায় টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার ফলেই ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই ভয়াবহ হামলা ঘটে।

অপরাধীদের চিনে রাখুন, মিনাবের স্কুলে হামলায় অভিযুক্ত দুই মার্কিন নৌ-অফিসারের নাম প্রকাশ করল ইরান

ইরানের দূতাবাস থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই দুই অফিসারের ছবি প্রকাশ করা হয়

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 29 March 2026 15:42

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ ইরানের মিনাবের একটি মেয়েদের স্কুলে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় (Minab school missile strike) এবার সরাসরি আমেরিকার বিরুদ্ধে আঙুল তুলল তেহরান। এই হামলায় অভিযুক্ত মার্কিন নৌবাহিনীর দুই অফিসারের নামও ঘোষণা করেছে (Iran names US Navy officers Minab attack)। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও গুরুতর দিকে এগোচ্ছে বলেই ধারণা বিশ্লেষক মহলের।

রবিবার ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নাইজেরিয়ায় থাকা ইরানের দূতাবাস থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই দুই অফিসারের ছবি প্রকাশ করা হয়। তাঁদের নাম - লেই রিচার্ড টেট, যিনি ইউএসএস স্প্রুয়ান্স-এর কমান্ডিং অফিসার, এবং জেফ্রি ই. ইয়র্ক, একই জাহাজের এক্সিকিউটিভ অফিসার। ইরানের অভিযোগ, এই দুই অফিসার তিন দফায় টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার ফলেই ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই ভয়াবহ হামলা ঘটে।

ভারতে থাকা ইরানি দূতাবাস ‘এক্স’-এ পোস্ট করে লিখেছে, “এই দুই অপরাধীকে মনে রাখুন - লেই রিচার্ড টেট এবং জেফ্রি ই. ইয়র্ক। তাঁদের নির্দেশেই তিনবার টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যে আঘাতে মিনাবের একটি স্কুলে ১৬৮ জন নিরীহ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।”

দক্ষিণ আফ্রিকার ইরানি দূতাবাসও একই সুরে প্রশ্ন তুলেছে এই অফিসারদের নিজেদের সন্তান আছে কি না। তাদের পোস্টে লেখা হয়, “তাঁদের কি নিজেদের সন্তান আছে?” একই ধরনের পোস্ট করে নাইজেরিয়ায় ইরানের দূতাবাস আরও কড়া ভাষায় জানতে চেয়েছে, “এভাবে নিরীহ স্কুল পড়ুয়াদের হত্যা করার পর তাঁরা রাতে ঘুমোতে পারেন কীভাবে? নিজেদের সন্তানের চোখে চোখ রাখতে পারেন?”

অন্যদিকে, জেনেভায় এক জরুরি আলোচনায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই হামলাকে “পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে চালানো আক্রমণ” বলে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, সংঘাতের প্রথম দিনেই এই হামলা চালানো হয়েছিল এবং এতে ১৭৫-রও বেশি ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক নিহত হন। তিনি স্পষ্টই বলেন, এটি কোনও ভুল নয়, বরং ইচ্ছাকৃত হামলা।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ঘটনাটিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। মার্কিন সামরিক তদন্তে প্রাথমিকভাবে ‘ভুল’ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে পুরনো বা আপডেট না হওয়া গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল, সেটি আসলে স্কুলের পাশেই অবস্থিত একটি ইরানি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়। আগে ওই স্কুল ও সামরিক স্থাপনাটি একই কমপ্লেক্সের অংশ ছিল। কিন্তু পুরনো বা ভুল ম্যাপিং ডেটার কারণে লক্ষ্যচ্যুতি ঘটে এবং সরাসরি স্কুলেই আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র।

মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। বিশেষ করে, কেন হামলার আগে গোয়েন্দা তথ্যগুলি পুনরায় যাচাই করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ওয়াশিংটন বরাবরই দাবি করে এসেছে, তারা কখনও সাধারণ মানুষের পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। এই ঘটনাও তারা খতিয়ে দেখছে বলে জানানো হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্টে অভিযোগ করেছেন, এই হামলার পিছনে ইরানের ভূমিকাও থাকতে পারে। তাঁর দাবি, ইরানের অস্ত্রশস্ত্র প্রায়শই নির্ভুল হয় না, ফলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

এর পাল্টা জবাবে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই সোশ্যাল মিডিয়ায় হামলার ভিডিও প্রকাশ করেন এবং সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধ’-এর অভিযোগ তোলেন।

২৮ ফেব্রুয়ারির এই মিনাব হামলা এমন এক সময়ে ঘটে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এই সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়। পরবর্তীতে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়, ইজরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে তারা।


```