
শেষ আপডেট: 3 February 2024 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্ক জুকারবার্গ থামবার পাত্র নন। একবার পা ভেঙে হাসপাতালে গিয়েছেন। হাঁটুর লিগামেন্ট ছেঁড়া, চোট এখনও সারেনি। তার উপরে ক্যারাটে, বক্সিং, জুজুৎসু কিছুই বাকি নেই। দৌড়ঝাঁপ, ঝুঁকির স্পোর্টস, প্রাণ হাতে নিয়ে লম্ফঝম্ফ সবই চলছে সমানে। মার্ক জুকারবার্গের সাফ কথা, “বিপদ যত বাড়বে পুরস্কারও ততই বড় হবে।” ডাকাবুকো মেটা-কর্তার এমন মনোভাবে রীতিমতো আতঙ্কে মেটা। মালিকের যদি কিছু একটা হয়ে যায়, তাহলে কোম্পানি ধরাশায়ী হবে। মেটার উচ্চপদস্থ কর্তারা তাই বলাবলি করছেন, “জুকারবার্গ যা শুরু করেছেন তাতে যে কোনওদিন বিপদ হবে। লোকটা বেঘোরে মরে না যায়।”
জুকারবার্গকে নাকি কিছুতেই বুঝিয়ে ঠান্ডা করা যাচ্ছে না। তিনি দমবার পাত্র নন। সাধারণ মানুষ অবসরে গান শুনতে, বউ পড়তে বা ছবি আঁকতে ভালবাসেন। অনেকের অন্যান্য নানা শখও থাকে। মার্ক জুকারবার্গের সবকটা শখই শক দিতে পারে। মানে সেইসব অতি ভয়ঙ্কর। এই হয়ত বিশাল উঁচু থেকে ঝাঁপ দিলেন, আবার কখনও ইচ্ছে হল পাহাড়ে চড়তে শুরু করলেন, বক্সিং রিং-এ ঢুকে প্রতিপক্ষের নাক ভেঙে দিলেন, নিজের থেকে ওজন বেশি এমন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে জুজুৎসুর প্যাঁচে ধরাশায়ী করলেন। এইসব করেই তাঁর আনন্দ। আর এতেই আতঙ্ক বাড়ছে মেটার। সংস্থার ডিরেক্টররা বলাবলি করছেন, জুকারবার্গ যে ধরনের স্পোর্টস বা মার্শাল আর্ট অভ্যাস করতে শুরু করেছেন তাতে আঘাত লাগার সম্ভাবনা খুব বেশি। আর হচ্ছেও তাই। আজ এখানে চোট, তো কাল সেখানে গভীর ক্ষত।
জুকারবার্গকে নিয়ে রীতিমতো নাস্তানাবুদ অবস্থা কোম্পানির। তাঁর এইসব ভয়ঙ্কর শখ যে কোম্পানির জন্য বিপদের কারণ হয়ে উঠছে তা বার বার বোঝানোর চেষ্টা করছেন সংস্থার কর্তৃপক্ষরা। কিন্তু তাতে লাভ কিছু হচ্ছে না। এই তো গত বছরই মার্শাল আর্টের একটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার আগে অনুশীলনের সময়েই পা ভেঙে যায় জুকারবার্গের। অপারেশন করাতে হয়। মূলত হাঁটুর কাছে লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়ে এই বিপত্তি হয়েছে মার্কের। লাফালাফি করতে গিয়ে কিংবা আচমকা দিক পরিবর্তন করতে গিয়ে অনেক সময়ই খেলোয়াড়রা এই ধরনের চোটের শিকার হন। অস্ত্রোপচারের পরেও এ ধরনের চোট সারতে মোটামুটি ৯ থেকে ১২ মাস সময় লাগে। মার্কের এই পরিণতি দেখে তাঁর অনুরাগীরাও বেশ চিন্তিত।
মার্ক এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জুজুৎসু মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই একটি প্রতিযোগিতায় জুজুৎসু প্যাঁচে তিনি ধরাশায়ী করেছেন পুরোদস্তুর জুজুৎসু জানা প্রতিযোগীকে। জিতেছেন সোনার পদক। চলতি বছরের জুলাইয়ে জুজুৎসুর নীল বেল্টের অধিকারী হয়েছেন তিনি। হাসপাতালে যাওয়ার আগে অবধি জুকারবার্গ নাকি রোজ এক মাইল দৌড়েছেন, ১০০টা পুল-আপ, ২০০ টা পুশ-আপ, ৩০০টা স্কোয়াট করেছেন। এর পরে মার্শাল আর্টের নানা প্যাঁচ-পয়জার অভ্যাস করেছেন। ব্রাজিলীয় জুজুৎসু, থাইল্যান্ডের বক্সিং অ্য়াসোসিয়েশনের বিখ্যাত মুয়ে থাই-তেও হাত পাকিয়েছেন জুকারবার্গ। আর এখন হাই-রিস্ক সব স্পোর্টসে নাম লেখাচ্ছেন। মেটা-মালিকের যে কী হবে, সেই নিয়ে এখন উৎকণ্ঠারই প্রহর গুনতে হচ্ছে কোম্পানিকে।