
শেষ আপডেট: 25 January 2024 09:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত বিরোধী কার্যকলাপের জন্য জনরোষের মুখে মলদ্বীপ সরকার। নিজের দেশেই কার্যত একঘরে হয়ে পড়ছেন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু। তাঁকে গদিচ্যুত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে বিরোধী দলগুলো। চিনা জাহাজকে মলদ্বীপে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই নিজের দেশে বিরাগভাজন হয়েছেন মুইজ্জু। এদিকে মলদ্বীপগামী চিনা জাহাজ ঠিক কী কী করছে সেদিকে সতর্ক নজর রাখছে ভারত।
ভারতের অস্বস্তি বাড়িয়ে চিনের জন্য নিজের দেশের দুয়ার উন্মুক্ত করে দিতে চাইছেন মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু। সূত্রের খবর, আপাতত দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগর এলাকায় আছে চিনা জাহাজ। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি তা মালে সমুদ্রবন্দরে নোঙর করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মলদ্বীপের ইকোনমিক জোনে যাতে কোনওরকম গবেষণা চালাতে না পারে চিনা জাহাজ, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে ভারতীয় নৌবাহনী সূত্রে খবর। যদিও মলদ্বীপ সরকার দাবি করেছে, চিনা জাহাজ কোনওরকম গবেষণা চালাবে না মলদ্বীপে। তবে চিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুইজ্জুর কথায় সম্পূর্ণ আস্থা রাখছে না ভারত।
শ্রীলঙ্কা ও মলদ্বীপে চিনা জাহাজকে ঢুকতে দেওয়া নিয়ে বরাবরই আপত্তি জানিয়েছে ভারত। কিন্তু লাক্ষাদ্বীপ নিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পর চিনা সরকারকে একেবারে খোলাখুলি নিমন্ত্রণ পাঠিয়ে রেখেছে মলদ্বীপের মুইজ্জু সরকার। চিনা ‘গুপ্তচর’ জাহাজকে মালে বন্দরে নোঙর করতে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু। তাঁর দাবি, যে কোনও বন্ধুরাষ্ট্রের জাহাজকেই মলদ্বীপে সাদরে অভ্যর্থণা জানানো হবে।
এদিকে ভারত-বিরোধী অবস্থানের জন্য নিজের দেশেই রোষের মুখে পড়েছেন মুইজ্জু। চিনা জাহাজকে মালেতে নোঙরের অনুমতি দেওয়ায় দুটি দলের তরফে যৌথ বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, মলদ্বীপ সরকার যে ভারত-বিরোধী অবস্থান নিয়েছে, তা দেশের দীর্ঘকালীন উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করলে মলদ্বীপ যে বিপদে পড়বে সেদিকেও সতর্ক করা হয়েছে।
ভারতের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, চিনের জাহাজ জ়িয়াং ইয়াং হং ৩ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঢুকছে। জাহাজটির গন্তব্য মলদ্বীপের রাজধানী মালে। জাহাজটি মলদ্বীপের কোনও বন্দরে নোঙর করে ভারত মহাসাগরে সমীক্ষা চালাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। চিন অবশ্য জানিয়েছে, তাদের এই জাহাজটি সামরিক জাহাজ নয়। কিন্তু ভারতের আশঙ্কা যে, সমীক্ষার নাম করে আসলে প্রতিবেশী দেশগুলির গোপন তথ্য সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেবে ওই নজরদারি জাহাজ। ভারতীয় সেনার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, চিনা জাহাজের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে।