ভেনেজুয়েলার (Venezuela) প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর (Nicolas Maduro) বিরুদ্ধে মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগে আমেরিকা (United States) পুরস্কার দ্বিগুণ করে ৫০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করল (Reward Announcement)। দুই দেশের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র।

ডোনাল্ড ট্রাম্ব ও নিকোলাস মাদুরো।
শেষ আপডেট: 11 August 2025 18:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের জন্য ঘোষিত পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নেশা ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদুরোর বিরুদ্ধে নতুন করে চাপ বাড়াতে এবার ২৫ মিলিয়ন ডলার থেকে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৪০০ কোটিরও বেশি) ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এক ভিডিও বার্তায় জানান, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য মাদুরোকে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করা। ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, যা পরে বাইডেন আমলে বাড়িয়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার করা হয়। এবার ট্রাম্পের নেতৃত্বে সেটি দ্বিগুণ করা হল। বন্ডির ভাষায়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে মাদুরো তার ঘৃণ্য অপরাধের জবাবদিহি এড়াতে পারবে না।”
মার্কিন বিচার বিভাগ মাদুরোকে “বিশ্বের অন্যতম বড় মাদক পাচারকারী” বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, তিনি ‘কার্টেল অব দ্য সান’-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল কোকেন পাচারে জড়িত। অভিযোগ, মাদুরো কলম্বিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফার্ক-এর সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাঠানোর ষড়যন্ত্র করেছেন। এছাড়া ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত “ত্রেন দে আরাগুয়া” ও মেক্সিকোর “সিনালোয়া কার্টেল”-এর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।
মার্কিন ডিইএ জানিয়েছে, মাদুরোর সহযোগীদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ টন কোকেন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭ টন সরাসরি মাদুরোর সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি, ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ—দুটি ব্যক্তিগত জেট, নয়টি গাড়ি সহ—জব্দ হয়েছে। গত জুনে ভেনেজুয়েলার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান হুগো কারভাহালের স্বীকারোক্তি এই অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করেছে। যদিও মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভেনেজুয়েলার বিদেশ মন্ত্রী ইভান গিল এই ঘোষণাকে “দুর্ভাগ্যজনক ও হাস্যকর” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি কেবল রাজনৈতিক অপপ্রচার। তাঁর দাবি, মার্কিন বিচার বিভাগের অন্যান্য বিতর্ক, যেমন জেফরি এপস্টিইন কাণ্ড থেকে মনোযোগ সরাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাদুরো প্রশাসন বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে “অবৈধ অর্থনৈতিক যুদ্ধ” বলে বর্ণনা করে আসছে।
হুগো শ্যাভেজের সময় থেকেই মার্কিন-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক উত্তপ্ত, যা মাদুরোর আমলে তিক্ততর হয়েছে। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটন মাদুরোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। পরিবর্তে বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মান্যতা দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা পিডিভিএসএ-র ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা মাদুরো সরকারের রাজস্বে বড় ধাক্কা দেয়।
ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি বছরের পর বছর ধরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।চরম মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য-ওষুধের ঘাটতি, দারিদ্র্য ও অপরাধের বিস্তার সীমা ছাড়িয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিবেশী দেশে শরণার্থী হয়েছে। রাজনৈতিকভাবেও দেশ বিভক্ত—মাদুরোর বিপরীতে বিরোধীরা বিদেশি সমর্থন পেলেও সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ মাদুরোর হাতে, যা তাঁকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে। আন্তর্জাতিক মহলে রাশিয়া, চীন ও তুরস্ক মাদুরোর পাশে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও লাতিন আমেরিকার কিছু দেশ বিরোধী শিবিরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পুরস্কার বৃদ্ধি কেবল দুই দেশের দ্বন্দ্বকেই উসকে দেবে না, বরং লাতিন আমেরিকার আঞ্চলিক রাজনীতিতেও অস্থিরতা ছড়াবে। ইতিমধ্যেই মার্কিন-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক এমন এক সীমায় পৌঁছেছে, যেখান থেকে ফেরার রাস্তা আরও কঠিন হতে পারে।