দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৫০ জন যাত্রী নিয়ে লন্ডন থেকে মুম্বই আসছিল ভার্জিন আটলান্টিক সংস্থার VS358 বিমান। বেশিরভাগই ভারতীয়। কিন্তু মাঝআকাশে এক যাত্রীর আকস্মিক অসুস্থতায় বিমানটিকে তুরস্কের দিয়ারবাকির বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে হয়। এরপর কেটে গিয়েছে প্রায় দুটো গোটা দিন, তবুও সেই বিমান এখনও তুরস্কের মাটিতেই। যাত্রীদের অনেকেই তীব্র ঠাণ্ডা, অস্বস্তিকর পরিবেশ ও পর্যাপ্ত পরিষেবা না থাকার অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে ভার্জিন আটলান্টিকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২ এপ্রিল বিমানটি তুরস্কের দিয়ারবাকির বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে এক যাত্রীর চিকিৎসার জন্য। কিন্তু অবতরণের পরেই বিমানটি একটি কারিগরি সমস্যায় পড়ে। সমাধানের জন্য কাজ চলছে, যাত্রী নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার।
জানা গেছে, আজ, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় যদি প্রয়োজনীয় অনুমোদন মেলে, তবে বিমানটি মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দেবে। নয়তো যাত্রীদের বাসে করে অন্য একটি তুর্কি বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়ে অন্য বিমানে মুম্বই পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
ইতিমধ্যেই অমানবিক অবস্থার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন আটকে পড়া যাত্রীরা। অভিযোগ, এত দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষার করতে হয়েছে, মাত্র একটি শৌচাগার মিলেছে এত মানুষের জন্য। প্রচণ্ড ঠান্ডায় কোনও কম্বল দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দরের আসনে বা মেঝেতে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে এই দীর্ঘ সময় ধরে।
যদিও বিমান সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, যাত্রীদের হোটেলে সরানো হয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতির সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের অনেকেই জানিয়েছেন, প্রথম ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় তাঁদের জন্য কোনও হোটেল বা আরামদায়ক বিশ্রামের ব্যবস্থা দেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে আঙ্কারার ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, এমন সংকটের সময় যাত্রীদের প্রতি বিমান সংস্থাগুলোর দায়বদ্ধতা কতটা আছে, এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়াই বা কতটা মানবিক? এখন দেখার বিষয়, আজ ৪ এপ্রিল দুপুরে বিমান ছাড়তে পারে কিনা!