
ইয়া সিনওয়ার
শেষ আপডেট: 18 October 2024 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হামাসের নয়া প্রধান ইয়া সিনওয়ারকে হত্যা করেছেন ইজরায়েল। এর পরই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে তার জায়গা কে নেবে। হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়ের মৃত্যুর পর তার জায়গা নিয়েছিল সিনওয়ার। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আবার খালি হয়েছে হামাস প্রধানের পদ। সেই দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে আছে একাধিকজন। কারা তারা?
এক বছর আগে হামাস ইজরায়েলে যে হামলা করেছিল তার অন্যতম প্রধান নেতা ছিল এই সিনওয়ার। হামলার 'আর্কিটেক্ট' বলা যেতে পারে। সম্প্রতি তাঁরা দক্ষিণ গাজায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছে। সেই লড়াইয়েই এই নেতার মৃত্যু হয়েছে। এমনই দাবি আইডিএফ-এর। সিনওয়ারের মৃত্যুর ফলে এবার হামাস প্রধান হওয়ার দৌড়ে উঠে এসেছে একাধিক নাম। তাদের মধ্যে অন্যতম মাহমুদ আল জাহার এবং মহম্মদ সিনওয়ার।
হামাস গোষ্ঠীর শুরুর দিন থেকে যে সব নেতারা ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম জাহার। হামাসের শক্তিবৃদ্ধির পিছনে এই নেতার বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০০৬ সালে প্যালেন্টাইনের নির্বাচনে জিতে প্রথম বিদেশমন্ত্রী হয়েছিল এই হামাস নেতা। তারপর থেকেই কার্যত হামাসের মাটি শক্ত হতে শুরু করে গাজায়। অন্যদিকে, মহম্মদ সিনওয়ার হল মৃত ইয়া সিনওয়ারের ভাই। একাধিক রিপোর্টের দাবি, দাদার থেকেও কার্যত এক কাঠি ওপরে ভাই সিনওয়ার। মনে করা হচ্ছে, সে হামাস প্রধান হল শান্তি ফিরিয়ে আনা আরও চাপের হবে।
এই দুজনের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসছে। তারা হল মৌসা মারজৌক, মহম্মদ ডেইফ, খালিল আল হায়া, খালেদ মাসাল। এদের মধ্যে মৌসা একসময়ে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ছিল। গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক দিকও দেখভাল করত। ১৯৯০ সালে আমেরিকায় জেলবন্দিও হয়েছিল সে। বাকিদের সকলেই কোনও না কোনও সময়ে প্রত্যক্ষভাবে হামাসের সঙ্গে কাজে করেছে বা অন্যান্য পদে ছিল। খালিল তো ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হামাসকে নেতৃত্ব দেয়।
ইজরায়েল সেনা কয়েক সপ্তাহ আগে দাবি করেছিল গাজা শহরের একটি স্কুলে রকেট হামলা চালিয়ে তারা হামাসের নয়া প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে খতম করেছে। পরে তারা এও দাবি করে, তিন মাস আগের একটি হামলায় খতম করা হয়েছে হামাস সরকারের প্রধানকেও! শুধু তাই নয়, তাঁর সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে আরও দুই শীর্ষ নেতার।
ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত শুরু হওয়ার পর লাগাতার হামলা চালিয়ে গাজা প্রদেশ কার্যত ধ্বংস করে দেয় ইজরায়েল। এই হামলার বিরোধিতা করে হামাসের পাশে দাঁড়ায় লেবাননের হিজবুল্লা গোষ্ঠী। তারপর থেকেই ইজরায়েল বাহিনী হামলার মুখ ঘুরিয়ে দিয়েছে লেবাননের দিকে। সেই সংঘাত এখনও চলছে। এবার এটাই দেখার হামাসের নয়া প্রধান ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কী পন্থা নেয়।