মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় খামেনেইর মৃত্যুর খবরের পর কাশ্মীর, কর্ণাটক, লাদাখ ও উত্তরপ্রদেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের শোক মিছিল ও প্রতিবাদ। মুখ্যমন্ত্রী শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 1 March 2026 21:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক ও লাদাখের শিয়া প্রধান এলাকাগুলোতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন (Khamenei death India protests)। দিল্লির ইরান দূতাবাসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
কাশ্মীরের শ্রীনগর, বদগাম, অনন্তনাগ ও পুলাওয়ামাসহ বিভিন্ন এলাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ কালো পতাকা ও খামেনেইর ছবি নিয়ে মৌন মিছিল করেছেন। বিক্ষোভকারীরা আমেরিকা ও ইসরায়েল বিরোধী স্লোগান দেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কাশ্মীরের প্রধান পুরোহিত মীরওয়াইজ উমর ফারুক গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ধর্মীয় সংগঠনগুলোর জোট ‘মুত্তাহিদা মজলিস-এ-উলামা’ (MMU) আগামী কাল, ২ মার্চ কাশ্মীরজুড়ে পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।


উত্তরপ্রদেশ ও কর্ণাটকের পরিস্থিতি
লখনউ ও বেরেলি: লখনউতে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা মোমবাতি মিছিল করে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বেরেলির মুসলিম নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন তিনি ভারতের কূটনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি থামানোর উদ্যোগ নেন।
কর্ণাটকের আলিপুরা: চিক্কাবল্লাপুর জেলার আলিপুরা গ্রামে তিন দিনের শোক পালিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ১৯৮৬ সালে খামেনেই এই গ্রামটি পরিদর্শন করেছিলেন এবং সেখানে তাঁর নামে একটি হাসপাতালও রয়েছে। গ্রামের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রেখে শোক পালন করছেন স্থানীয়রা।
পাঞ্জাব ও লাদাখে বিক্ষোভ
পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় শাহী ইমামের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফিল্ড গঞ্জ মসজিদের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। সেখানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করা হয়েছে। লাদাখেও শান্তিপূর্ণ শোক মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।
আমেরিকা এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল এর নাম দিয়েছে ‘অপারেশন লায়ন’স রোর’। খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরান ইতিমধ্যেই পাল্টা আঘাত হিসেবে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। সব মিলিয়ে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভারতজুড়ে মুসলিম ধর্মগুরুরা একে ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং আগামী কয়েকদিন বিভিন্ন স্থানে বিশেষ প্রার্থনা ও শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে।