ইরানের (Israel Iran War update) লাগাতার মিসাইল হামলার মুখে পড়েছে ইজরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে আর মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন চলতে পারে ইজরায়েলের এয়ার ডিফেন্স তথা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

ইজরায়েলের এয়ার ডিফেন্সে চাপ
শেষ আপডেট: 18 June 2025 19:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের (Israel Iran War update) লাগাতার মিসাইল হামলার মুখে পড়েছে ইজরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে আর মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন চলতে পারে ইজরায়েলের এয়ার ডিফেন্স তথা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মার্কিন সূত্র উদ্ধৃত করে বুধবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
গত শুক্রবার থেকে ইজরায়েল শুরু করেছে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’। এর পর থেকে ইরান ছুঁড়েছে প্রায় ৪০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা তাদের মোট মিসাইল ভাণ্ডারের একটি খুব একটা বড় অংশ নয় বলেই আশঙ্কা। ইজরায়েলের দাবি, তারা ইরানের ছোঁড়া অধিকাংশ মিসাইল ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও, এর জন্য ভয়ানক খরচের মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি রাতে আকাশ প্রতিরক্ষা বাবদ ইজরায়েলের খরচ হচ্ছে প্রায় ১ বিলিয়ন শেকেল, অর্থাৎ ২৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অ্যারো (Arrow) সিস্টেমে ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের দামই ৩০ লক্ষ ডলার। শুধু খরচই নয়, বড় সমস্যা হল—এই ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলির স্টক দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
এক মার্কিন গোয়েন্দা আধিকারিক জানিয়েছেন, আমেরিকার তরফ থেকে নতুন করে সাহায্য না এলে, এই গতিতে ইজরায়েলের ডিফেন্স সিস্টেম আর ১০ থেকে ১২ দিনের বেশি টিকবে না।
এদিকে, ইজরায়েল দাবি করেছে যে তারা ইতিমধ্যে ইরানের এক-তৃতীয়াংশ মিসাইল লঞ্চিং স্টেশন ধ্বংস করেছে এবং ইরানের আকাশসীমায় আংশিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে গোপন সূত্র বলছে, ইরানের অন্তত অর্ধেক মিসাইল এখনও মজুত রয়েছে, যার একটি বড় অংশ হয়তো গোপন ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে রয়েছে।
ইজরায়েলের মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত চারটি স্তরের উপর দাঁড়িয়ে— আয়রন ডোম (Iron Dome), ডেভিডস স্লিং (David’s Sling), অ্যারো (Arrow System) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো প্যাট্রিয়ট ও থাড (Patriot , THAAD)। কিন্তু এই প্রতিটি স্তরেরই অস্ত্র মজুত এখন দ্রুত কমে আসছে।
পূর্ব সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও ইরানের কিছু মিসাইল ইতিমধ্যেই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা জাল ভেদ করে তেল আবিবের আইডিএফ সদর দফতরের কাছাকাছি, হাইফার একটি প্রধান রিফাইনারি এবং উত্তর তেল আবিবে গোয়েন্দা দফতরের সংলগ্ন এলাকাতে আঘাত হেনেছে।
ইজরায়েলের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ২৪ জন নিহত এবং ৬০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—আকাশ রক্ষা করতে গিয়ে ইজরায়েল কি শেষ পর্যন্ত নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই নিঃশেষ করে ফেলবে? যদি ইরান একইভাবে আক্রমণ জারি রাখে, তাহলে হয়তো ইজরায়েলকে বেছে নিতে হবে, কোন মিসাইল থামাবে আর কোনটা নয়। যুদ্ধের মোড় এবার সেই কঠিন সিদ্ধান্তের দিকেই এগোচ্ছে।