
শেষ আপডেট: 8 October 2023 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েল ও হামাসের সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত দু পক্ষের পাঁচশোর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা অগুনতি বলে ওই সব সংস্থার দাবি। সংঘর্ষ বিধ্বস্ত এলাকার প্রকৃত খবর পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ মাধ্যমগুলি জানিয়েছে, আহতের সংখ্যা কয়েক হাজার।
এদিকে, হামাসের শনিবারের হামলার চরম প্রতিশোধ নিতে বড় ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইজরায়েলি বাহিনী। তারা গাজার বাসিন্দাদের শহর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। গাজায় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অংশে শনিবার রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় ইজরায়েলি সেনা।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, শত্রুদের এবার চরম জবাব দেওয়া হবে। যা হবে নজিরবিহীন। তিনি আরও বলেছেন, এই যুদ্ধ আমরা জিতবই।
নেতানিয়াহুর হুমকির পর রাষ্ট্রসংঘ গাজায় তাদের আশ্রয় শিবিরগুলি খুলে দিয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন।
হামাসের ‘অপারেশন আল আকসা ফ্লাড’-এর জবাবে ইজরায়েল ‘অপারেশন আয়রন সোর্ড’ শুরু করেছে শনিবার রাতেই। গাজার উপকূলীয় এলাকায় তুমুল বোমা বর্ষণ করেছে ইজরায়েলি বাহিনী। হামাসের রকেট হামলার জবাবে ইজরায়েল শনিবার যুদ্ধ ঘোষণা করে। শনিবার রাতভর ১৭টি জায়গায় তুমুল সংঘর্ষ হয়।
নেতানিয়াহুর আশু লক্ষ্য হামাসের হাতে বন্দি ইজরালেয়ের সাধারণ মানুষ এবং সেনা ও সরকারি কর্তাদের মুক্ত করা। তাদের মধ্যে বেশ কিছু শিশু এবং নারী হয়েছেন। অন্যদিকে, হামাসের দাবি, ইজরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দিতে হবে। ইজরায়েল বাহিনীর দাবি করেছে, কিব্বুতজ বে এলাকায় তারা কিছু অপহৃতকে উদ্ধার করেছে।
শনিবার দুপুরে হামাস মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যে পাঁচ হাজার রকেট ছোড়ে। তাতে এখনও পর্যন্ত ইজরায়েলের ২৫০ জন নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, ইজরায়েলি সেনার হামলায় মারা গিয়েছেন ২৬০জন ফিলিস্তিনি। হামাসের হামলায় ইজরায়েল তাদের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ করেনি। তবে তাদের সামরিক ঘাঁটি অক্ষত বলে দাবি করেছে দেশটি। তাদের পাল্টা দাবি, ইজরায়েলের বিমান বাহিনী হামাসের ১৭টি বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে।
যদিও ইজরায়েলের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল হামাসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডোদের খুঁজে বের করা। শনিবার রকেট হামলার সময়ই অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হামাস বাহিনী ইজরায়েলের বেশ কিছু শহরে ঢুকে পড়েছে।