গোটা বিশ্বের মুসলিমদের উদ্দেশে শিরাজি ফতোয়া জারি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন।

আমেরিকা ও ইজরায়েলের দুই রাষ্ট্রপ্রধান আল্লার দুশমন।
শেষ আপডেট: 30 June 2025 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সোমবার ‘ফতোয়া’ জারি করল ইরান। এই দুজনকে ‘আল্লার দুশমন’ তকমা দিয়েছেন ইরানের শিয়া ধর্মের সর্বোচ্চ আয়াতোল্লা বা মহান আয়াতোল্লা (আয়াতোল্লা উজমা) নাসের মাকারেম শিরাজি। গোটা বিশ্বের মুসলিমদের উদ্দেশে শিরাজি ফতোয়া জারি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের দুই রাষ্ট্রপ্রধান আল্লার দুশমন। তাঁরা ইসলামি রিপাবলিককে হুমকি দিয়েছেন। তাই তাঁদের বিনাশ অবশ্যম্ভাবী।
শিরাজি বলেছেন, কোনও লোক বা শাসকদল যদি মারজিয়াত বা ধর্মনেতাকে খুনের হুমকি দেয় তো তাকে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধবাজ বা মোহারেব বলা হয়ে থাকে। মেহর সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, মহা আয়াতোল্লা শিরাজি যা বলেছেন তার অর্থ হল, মোহারেব সেই ব্যক্তি যে আল্লার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ইরানের আইন অনুসারে, মোহারেব বলে যাকে চিহ্নিত করা হয়, তাকে মৃত্যুদণ্ড, প্রকাশ্যে মেরে ঝুলিয়ে রাখা, পা কেটে দেওয়া অথবা নির্বাসন দণ্ড দেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে বলে জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
ফতোয়ায় আরও উল্লেখ করা আছে যে, এই দুজনের বিরুদ্ধে বিশ্বের কোনও মুসলিম কিংবা ইসলামি রাষ্ট্র যদি কোনও রকম সহযোগিতা বা সমর্থন করে তাহলে তাকে ‘হারাম’ অথবা ক্ষমার অযোগ্য অপবিত্র কাজ বলে গণ্য করা হবে। শিরাজি বলেছেন, সমস্ত মুসলিম দেশ যে এই আল্লার দুশমনদের কৃতকর্মের উচিত শাস্তি দেয়। তাদের অনুশোচনা করতে হয় হুমকি ও ভুল কাজের জন্য।
তিনি আরও বলেছেন, কোনও মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ যদি এই কাজ করতে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হন, তাহলে তাঁকে আল্লার ইচ্ছানুযায়ী আল্লার রক্ষক বা আল্লার যোদ্ধা বলে সম্মানিত করা হবে। প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু প্রথম নন, এর আগেও একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুসলিম দুনিয়া ফতোয়া জারি করেছে। সেই উদ্দেশ্যে কিছু লোককে প্রাণে মারাও হয়েছে, তো কিছু লোকের উপর প্রাণঘাতী আক্রমণ করা হয়েছে। ফতোয়ার জেরে বহু মানুষ দেশ ছেড়ে এখনও গোপনে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অথবা অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। ১৯৮৯ সালে এরকমই এক ফতোয়া জারি করা হয়েছিল বিখ্যাত লেখক সলমন রুশদির বিরুদ্ধে। এই ফতোয়ার জেরে রুশদি এখনও আত্মগোপন করে রয়েছেন এবং বইয়ের অনুবাদক এক জাপানি নাগরিককে খতম করা হয়েছে। এমনকী বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধেও ফতোয়া জারিতে তিনিও আর দেশে ফিরতে পারেননি বহু যুগ।