ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি জানিয়েছেন, “আইন অনুযায়ী প্রোটোকল না মানা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি না থাকায় 'সেলেন' নামের জাহাজটিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় বাধ্যতামূলক।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 25 March 2026 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান (Pakistan mediation US Iran)। তার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি বজায় রাখল ইরান (Hormuz control Iran)। এই পরিস্থিতিতে করাচিগামী একটি কনটেইনার জাহাজকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দিল তেহরান (Iran turns back Karachi bound ship Hormuz)। মঙ্গলবার রাতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানায়, কিছু নিয়মের কারণে (SELEN) নামের ওই জাহাজটি হরমুজ পেরনোর অনুমতি পায়নি।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ইরান যে খুব তাড়াতাড়ি নিজের হাতে থাকা রাশ হালকা করবে না, সেই কঠোর নিয়ন্ত্রণেরই প্রমাণ মিলেছে এই ঘটনায়। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি জানিয়েছেন, “আইন অনুযায়ী প্রোটোকল না মানা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি না থাকায় 'সেলেন' নামের জাহাজটিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় বাধ্যতামূলক।
তথ্য অনুযায়ী, 'সেলেন' একটি সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস পতাকাবাহী জাহাজ, যা করাচি বন্দরের উদ্দেশে পণ্য নিয়ে যাচ্ছিল। অনলাইন শিপ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য বলছে, বর্তমানে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে রয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজাহ অ্যানকারেজে নোঙর করা আছে।
আমেরিকা-ইরান-ইজরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্রপথের উপর শক্ত দখল বজায় রেখেছে ইরান। পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার পর ইরান জানিয়ে দেয়, আমেরিকা, ইজরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলির জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না।
তবে নিরপেক্ষ জাহাজগুলিকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হবে, সেক্ষেত্রে শর্ত একটাই, আগে থেকে আইআরজিসি এবং ইরান সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে সামনে এসেছে পাকিস্তানের প্রস্তাব। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা সংঘাত থামাতে আলোচনার উদ্যোগ নিতে চায় ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, আরব দুনিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে যে কোনও আলোচনাকেই তারা সমর্থন করে। একই সঙ্গে, আমেরিকা ও ইরান সম্মত হলে সেই আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত পাকিস্তান।
তবে এই প্রস্তাব নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শরিফের এই ঘোষণাটি শেয়ার করেছেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে তাঁর ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং পাঁচ দিনের জন্য জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা স্থগিত রাখা হবে। তবে সেই দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও আলোচনা হয়নি। এমনকি দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘বাজারকে প্রভাবিত করতে ভুয়ো খবর ছড়ানোর’ অভিযোগও তুলেছেন।
চলতি যুদ্ধে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি পাকিস্তানও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে চাওয়ার পেছনে মূল কারণ অর্থনৈতিক নয়। ইরানের মত পাকিস্তানও শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। ইসলামাবাদের কর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চললেও ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ হয়েছে পাকিস্তানে। করাচিতে আমেরিকার কনসাল অফিস ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা ও পুলিশকে গুলি চালাতে হয়। তাতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। চরম আর্থিক দুর্দশার মধ্যে থাকা দেশটি ইরানের জন্য অর্থ সাহায্য তুলছে জনসাধারণের কাছ থেকে। মনে করা হচ্ছে দেশবাসীর এই সেন্টিমেন্টকে মর্যাদা দিতেই যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে আগ্রহী পাকিস্তান।
সব মিলিয়ে, একদিকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কড়া অবস্থান, অন্যদিকে পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগ—এই দুইয়ের মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।