খামেইনির ঘনিষ্ঠ এবং কট্টরপন্থী দৈনিক ‘কায়হান’-এর সম্পাদক হোসেইন শরিয়তমাদারি সম্পাদকীয়তে দাবি করেন, 'আর দেরি নয়। এবার পালা আমাদের।'

ছবি সৌজন্যে- আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা
শেষ আপডেট: 22 June 2025 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল-ইরান সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করল আমেরিকা। রবিবার ভোর রাতে ইরানে ঢুকে তিন পরমাণু ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইজরায়েলে হামলা চালায় তেহরান। মৃত কমপক্ষে ১১, জখম বহু। এবার সরাসরি আমেরিকার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় থাকা প্রত্যেক মার্কিন নাগরিক এবং সেনা এখন তাদের ‘টার্গেটে।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর ঘনিষ্ঠ এবং কট্টরপন্থী দৈনিক ‘কায়হান’-এর সম্পাদক হোসেইন শরিয়তমাদারি এদিন একটি সম্পাদকীয়তে দাবি করেন, 'আর দেরি নয়। এবার পালা আমাদের। প্রথম ধাপে বাহরিনে থাকা আমেরিকার নৌসেনা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হানা চালানো উচিত। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দিতে হবে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির জাহাজের জন্য।'
এর আগে আলি খামেনেই নিজেও আমেরিকাকে ‘গুরুতর পরিণতি-র হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। শরিয়তমাদার লেখায় সেই হুঁশিয়ারির প্রতিধ্বনি শোনা গেল। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের পাল্টা হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য কোন কোন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি?
পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনার উপস্থিতি
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার কেন্দ্রীয় কম্যান্ড ‘সেন্টকম’-এর অধীনে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। বাহরিন, কুয়েত, ইরাক, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সিরিয়ার বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে এই সেনারা কাজ করেন।
বাহরিন
এই ছোট উপসাগরীয় দেশটিতে রয়েছে আমেরিকার পঞ্চম নৌবহর এবং নৌসেনার সেন্ট্রাল কম্যান্ডের সদর দফতর। বাহরিনের গভীর সমুদ্রবন্দরে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থেকে শুরু করে লজিস্টিক সাপোর্ট জাহাজ পর্যন্ত ভিড়তে পারে। ১৯৪৮ সাল থেকেই এই ঘাঁটি ব্যবহার করছে মার্কিন নৌসেনা।
কাতার
মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি ‘আল উদেইদ এয়ারবেস’ কাতারে অবস্থিত। এখানে সেন্টকম-এর ফরোয়ার্ড কম্যান্ড, মার্কিন বিমানবাহিনী এবং স্পেশাল ফোর্সের ইউনিট রয়েছে। ৩৭৯তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং এই ঘাঁটি থেকেই পরিচালিত হয়।
ইরাক
ইরাকের আল-আসাদ এবং এরবিলের আল-হারির ঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবেই তাঁদের রাখা হয়েছে বলে জানা যায়। এর আগেও কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরান আমেরিকার আল-আসাদ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল।
সিরিয়া
দীর্ঘ দিন ধরেই সিরিয়ায় বিভিন্ন ঘাঁটিতে রয়েছে আমেরিকার সেনা উপস্থিতি। দক্ষিণ সিরিয়ায় আল-তানফ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ইরাক ও জর্ডনের সীমান্তের কাছেই।
কুয়েত
ইরাক সীমান্ত থেকে মাত্র ২০ মাইল দূরে অবস্থিত আলি আল-সালেম এয়ারবেস, যেখানে রয়েছে ৩৮৬তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং। এই ঘাঁটি মূলত কমব্যাট টহল এবং লজিস্টিক সাপোর্টের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া রয়েছে ‘ক্যাম্প আরিফজান,’ যা মার্কিন সেনার ফরোয়ার্ড হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)
আল ধাফরা এয়ারবেসে রয়েছে আমেরিকার ৩৮০তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং। এখানে রয়েছে এফ-২২ র্যাপটর ফাইটার জেট, বিভিন্ন ধরনের ড্রোন এবং নজরদারি বিমান। এখানেই অবস্থিত গালফ এয়ার ওয়ারফেয়ার সেন্টার, যেখানে বিমান প্রতিরক্ষা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ চলে।
ইরান সরাসরি মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করার হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। এখন যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে আরও বড় মাপের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে বহু দেশ।