গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তাঁর সরকারি কম্পাউন্ডে মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ বিমান হামলায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। এরপরই পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত তীব্র রূপ নেয়।

আয়াতোল্লা আলি খামেনেই
শেষ আপডেট: 14 March 2026 21:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei) নিজের নিরাপত্তার জন্য কখনও আলাদা ব্যবস্থা নিতে চাননি। সহকারীদের একাধিক অনুরোধ আমেরিকা-ইজরায়েলের টানা হামলার পরও তিনি তেহরানের বাসভবন ছেড়ে নিরাপদ বাঙ্কার বা অন্যত্র যেতে রাজি হননি। তাঁর যুক্তি ছিল, দেশের ৯ কোটি মানুষের জন্য যদি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা না যায়, তাহলে শুধু নিজের জন্য নিরাপত্তা নেওয়া একজন নেতার পক্ষে ঠিক নয়।
দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খামেনেই ঘনিষ্ঠ আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন ও দফতর সবাই চেনে, তাহলে কেন তাঁকে অন্য কোনও জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না, খামেনেইর নিরাপত্তা বাহিনীকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন ইলাহি। উত্তরে নিরাপত্তারক্ষীরা জানিয়েছিলেন, 'আয়াতোল্লা খামেনেই নিজেই কোথাও যেতে চাননি।'
ইলাহির কথায়, "খামেনেই স্পষ্ট বলেছিলেন, যদি তেহরানের ৯ কোটি মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন, তবেই আমি বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও যাব।” এমনকি তাঁর জন্য আলাদা করে বাঙ্কার বানানোর প্রস্তাবও তিনি নাকচ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “যদি ৯ কোটি মানুষের জন্য ৯ কোটি বাঙ্কার তৈরি করা যায়, তবেই আমার জন্য একটি বাঙ্কার তৈরি করা হোক।”
পরিবারের সদস্যদের কাছেও একই প্রশ্ন উঠেছিল। তখন তাঁর পরিবারের তরফে জানানো হয়, খামেনেই বলতেন, একজন নেতাকে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গরিব ও প্রান্তিক মানুষের মতোই জীবনযাপন করতে হয়। নিজের জন্য আলাদা সুবিধা নিলে তিনি আর প্রকৃত অর্থে দেশের নেতা থাকতে পারবেন না।
ইলাহি আরও বলেন, খামেনেই দীর্ঘদিন ধরেই ‘শহিদ’ হওয়ার ইচ্ছার কথা বলতেন। কয়েক মাস আগে তিনি নাকি বলেছিলেন, বৃদ্ধ বয়সে হাসপাতালে বা অসুখে মারা যেতে তিনি চান না, বরং শহিদ হওয়াকেই তিনি সম্মানের বলে মনে করতেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তাঁর সরকারি কম্পাউন্ডে মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ বিমান হামলায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। এরপরই পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত তীব্র রূপ নেয়। ১৫ দিন পরও অস্থিরতা বজায় রয়েছে। ইতিমধ্যেই খামেনেই পুত্র মোজতবা খামেনেইকে ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।