বুশেহর উপকূল থেকে ২৫-৩০ কিমি দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি বিশাল তেল ট্যাংকার লোডিংয়ের সুবিধা এবং জলের গভীরতার কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে ওই দীপ্তিকে ইরানের তেল সাম্রাজ্যের হৃৎপিণ্ড বলা হয়ে থাকে।
.jpg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 30 March 2026 09:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৌশল বদলে ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন তাঁর এখন প্রধান লক্ষ্য পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের খারগ দ্বীপটি দখল নেওয়া।
শনিবার থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী (US Army) ইরানে স্থলপথে আক্রমণের যে পরিকল্পনা করছে তার প্রধান উদ্দেশ্য এই দ্বীপটির দখল নেওয়া, সাক্ষাৎকারে তা খোলাখুলি জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President)
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের আক্রমণের (US Israel strikes in Iran ) প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল সেদেশের পরমাণু স্থাপনা এবং যুদ্ধাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলি। যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা গুলির একাধিক সূত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছিল, ইরানে আমেরিকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোন বিপদজনক পরমাণু প্রকল্প নেই।
মনে করা হচ্ছে সেই কারণেই ট্রাম্প এখন কৌশল বদল করে খারগ দ্বীপটির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এর প্রধান কারণ পারস্য উপসাগরের উত্তর অংশে অবস্থিত ইরানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ছোট প্রবাল দ্বীপটি দেশটির ৯০% অপরিশোধিত তেল রফতানির মূল কেন্দ্র।
বুশেহর উপকূল থেকে ২৫-৩০ কিমি দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি বিশাল তেল ট্যাংকার লোডিংয়ের সুবিধা এবং জলের গভীরতার কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে ওই দীপ্তিকে ইরানের তেল সাম্রাজ্যের হৃৎপিণ্ড বলা হয়ে থাকে।
খারগ দ্বীপের মূল বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব হল এটি সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানি হাব। প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল লোড করা হয়ে থাকে এই দ্বীপে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প খোলাখুলি বলেছেন তিনি ভেনেজুয়েলার মতোই ইরানের তেল ক্ষেত্র দখল করতে চান। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে আমেরিকায় নিয়ে আসার পর সে দেশের তেল ভান্ডার গুলি এখন মার্কিন সেনাদের দখলে। ইরানকে জব্দ করতে সেই একই কৌশল নিতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পারস্য উপসাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত খারগ দ্বীপ বুশেহর প্রদেশের প্রশাসনিক এলাকার অন্তর্গত।
এই দ্বীপে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (IRGC) পাহারা দেয়। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমী দুনিয়া দ্বীপটিকে 'নিষিদ্ধ দ্বীপ' বলে থাকে।
ট্রাম্প তার এই নয়া সিদ্ধান্তের সমালোচকদের 'বোকা' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য ওই দ্বীপ দখল করা মার্কিন সেনাদের পক্ষে মোটেই কঠিন কাজ হবে না। মার্কিন পদাতিক ও প্যারাট্রুপার বাহিনী সহজেই দ্বীপটির দখল নিতে পারবে। কারণ তিনি নিশ্চিত খারগ দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তেমন মজবুত নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, আমি জানি খারগ দ্বীপ দখলের পর পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানি তেলের উপর আমেরিকার প্রবল নিয়ন্ত্রণ কায়েম হবে।