বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই রুট কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল পরিশোধিত তেল পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অনুমান।

শেষ আপডেট: 12 March 2026 14:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলতি সংঘাতের মধ্যেই (Iran War) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে (Hormuz pronali – Strait of Hormuz) বিস্ফোরক মাইন পাতা শুরু করেছে ইরান। এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গোয়েন্দা সূত্রেরা। সিএনএন–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?
ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরগুলির একটি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই রুট কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল পরিশোধিত তেল পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অনুমান।
কী করছে ইরান?
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান সম্প্রতি প্রণালীতে কয়েক ডজন নৌ-মাইন বসাতে শুরু করেছে। যদিও এই সংখ্যা এখনও খুব বেশি নয়, তবুও ইরানের নৌবাহিনীর কাছে এখনও বহু ছোট নৌকা ও মাইন পাতা জাহাজ সক্রিয় রয়েছে। এই মাইনগুলির বিভিন্ন ধরন রয়েছে—জাহাজের গায়ে লাগানো লিম্পেট মাইন, জলের নিচে ভাসমান মুরড মাইন ও সমুদ্রতলে রাখা বটম মাইন যেগুলি জাহাজ কাছে এলেই বিস্ফোরিত হতে পারে।
সম্প্রতি থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ ময়ুরী নারী -তে (Mayuree Naree) হামলার অভিযোগ উঠেছে। জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তিনজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও এক্সপ্রেস রোম (Express Rome) নামে আরেকটি জাহাজেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ১৬টি মাইন পাতা নৌযান ধ্বংস করেছে। তবে ইতিমধ্যেই মাইন বসানো হয়ে থাকলে সেগুলি সরানো কঠিন হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি মাইন না সরায় তাহলে “অভূতপূর্ব পরিণতির” মুখোমুখি হতে হবে।
হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ এই রুট দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাকসহ উপসাগরীয় দেশগুলির বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি হয়।সৌদি তেল সংস্থা সৌদি আরামকো ইতিমধ্যেই সতর্ক করে জানিয়েছে, এই পথ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিশ্ব তেলের বাজারে “বিপর্যয়কর পরিস্থিতি” তৈরি হতে পারে।
১৯৮০–র দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা ও মাইন পাতা হয়েছিল। তখন একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ (USS Samuel B. Roberts) মাইনে আঘাত পেয়ে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সেই স্মৃতিই ফের উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।