ভারত ও ইরান মানবিক সহযোগিতায় একসঙ্গে কাজ করছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারত থেকে ইরানে নতুন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছিল। ফলে এই হামলা দুই দেশের চলমান মানবিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ লজিস্টিক পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
.jpg.webp)
ইরানি বিমানে হামলা
শেষ আপডেট: 31 March 2026 07:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জরুরি সরঞ্জাম নিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল একটি ইরানি বিমান (Delhi-bound Iranian plane)। মাঝপথে সেটিকে লক্ষ্য করে হামলার চালায় আমেরিকা (Iran aircraft strike), মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে (Middle East Tension) উত্তেজনার পারদ আরও চড়াল তেহরানের এই অভিযোগ।
সূত্রে খবর, বিমানটি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে একটি মানবিক সহায়তা মিশনে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। এই ঘটনার ফলে পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরানি সূত্র জানায়, মাহান এয়ারের (Mahan Air attack) ওই বিমানটি মাশাদ বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েছিল। সেখানেই বিমানটিতে আঘাত করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। বিমানটি সেদিনই ভারতের দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল এবং মানবিক সাহায্যের অংশ হিসেবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সরঞ্জাম বহন বা পরিবহনে যুক্ত ছিল (Iran India humanitarian mission)। ইরান জানিয়েছে, এই হামলার ফলে সেই পরিকল্পনাভেস্তে গেছে।
ঘটনার পর ইরানের বিমান মন্ত্রক একটি বিবৃতি দিয়ে অভিযোগ করেছে, 'এটি শুধু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন নয়, বরং সরাসরি যুদ্ধাপরাধ'। তাদের দাবি, বেসামরিক বিমান, বিশেষ করে মানবিক মিশনে ব্যবহৃত বিমানকে লক্ষ্য করে হামলা করা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল আইন এবং মানবিক নীতির পরিপন্থি।
তারা উল্লেখ করেছে,
জেনেভা কনভেনশনের অতিরিক্ত প্রটোকল-১ এর অনুচ্ছেদ ৫২, যেগুলো অনুযায়ী মানবিক কাজে ব্যবহৃত বেসরকারি উড়োজাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
ইরান আরও জানায়, বিমানটিতে বিভিন্ন দেশের সংগৃহীত ওষুধ ও চিকিৎসা সহায়তা ছিল, যা মানবিক প্রয়োজনেই পরিবহনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ ধরনের বিমানকে আঘাত করা সরাসরি মানবিক কার্যক্রমকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তারা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে দাবি জানিয়েছে—এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত হোক এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।
এই ঘটনার সময়ই ভারত ও ইরান মানবিক সহযোগিতায় একসঙ্গে কাজ করছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারত থেকে ইরানে নতুন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছিল। ফলে এই হামলা দুই দেশের চলমান মানবিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ লজিস্টিক পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তার ওপর নতুন প্রশ্ন তুলছে এবং সামনের দিনগুলোতে আরও সতর্কতা বাড়াতে হতে পারে।