
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
শেষ আপডেট: 21 November 2024 22:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ! এমনই অভিযোগে এবার অভিযুক্ত হলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সে দেশের প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উঠেছে। আর সেই প্রেক্ষিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি।
ইজরায়েল-হামাস সংঘাত নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। লাগাতার সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। হামাসকে গোড়া থেকে নির্মূল করতে হামলা বন্ধ না করার পণ নিয়েছেন ইজরায়েল প্রধানমন্ত্রী। সেই কারণেই এয়ারস্ট্রাইক হয়েছে, এখন গাজায় চলছে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তিনি 'ওয়ার ক্রাইম' করছেন। নৈতিকতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে খুন, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া, মানুষের ওপর নারকীয় অত্যাচার, খেতে না দেওয়ার মতো অপরাধ করছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এও মনে করছে, এই দুজন অভিযুক্ত ইচ্ছাকৃতভাবে বেঁচে থাকার অপরিহার্য বস্তু থেকে বঞ্চিত করে গাজার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। এই কারণেই ভীষণ রকম অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গাজায়। তার জন্য দায়ী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ইয়োভ গ্যালান্ট। গত ৮ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ২০ মে ২০২৪ পর্যন্ত যে রিপোর্ট আদালত হাতে পেয়েছে তার ভিত্তিতেই এই পর্যবেক্ষণ আদালতের।
বিচারকের আরও পর্যবেক্ষণ, ইচ্ছা করে গাজায় খাবার, পানীয় জল, বিদ্যুৎ এমনকী ওষুধ পর্যন্ত পাঠানো হচ্ছে না। এইভাবে সরাসরি না মেরে পরোক্ষে গাজার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে ইজরায়েল। প্রাপ্তবয়স্করা তো মারা যাচ্ছেন, শিশুরা অপুষ্টিতে ভোগা শুরু করেছে। তাতেও অনেক মৃত্যু ঘটছে।
হামাস ইজরায়েলে হামলা করার পর থেকেই গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপ হয়ে গেছে ইজরায়েলি হামলায়। নেতানিয়াহু স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, হামাস ইজরায়েল ও তার নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে। ওরাই প্রথম হামলা চালিয়েছে। শত্রুদের এমন মূল্য চোকাতে হবে যা ওরা কল্পনাও করতে পারবে না। এর আগে ভারত, আমেরিকা সহ একাধিক দেশ তাঁকে যুদ্ধ থামানোর আর্জি জানিয়েছে। কিন্তু কারও কথাতেই পাত্তা দেননি নেতানিয়াহু। এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সিদ্ধান্তে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী থাকে, সেটাই দেখার বিষয়।