রাতভর চলা তল্লাশির পর মঙ্গলবার ভোরে আটজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারীদের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু দেহ দেখা গেছে, ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

উদ্ধারকাজ চলছে দ্রুতগতিতে
শেষ আপডেট: 30 September 2025 09:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো (Sidoarjo) শহরে ভয়াবহ স্কুল ভবন ধসের (Indonesia school collapse) ঘটনায় অন্তত এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন প্রায় শতাধিক। এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচে ৬৫ জন ছাত্র চাপা পড়ে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী (rescue operation) সূত্রে খবর, ঘটনার ভয়াবহতা বলছে বাড়তে পারে মৃতদেহের সংখ্যা।
সোমবার বিকেলে আল খোজিনি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুল (Al Khoziny Islamic Boarding School)-এর নামাজঘরের ভবন হঠাৎ ভেঙে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তখন সপ্তম থেকে একাদশ শ্রেণির মধ্যে পড়ুয়া ছাত্ররা বিকেলের নামাজ পড়ছিল।
১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। উদ্ধারকাজ চলছে দ্রুতগতিতে। রাতভর চলা তল্লাশির পর মঙ্গলবার ভোরে আটজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারীদের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু দেহ দেখা গেছে, ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
প্রায় কয়েকশো উদ্ধারকর্মী, পুলিশ ও সেনা এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন। বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। এর বদলে উদ্ধারকর্মীরা অক্সিজেন ও পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ভেতরে আটকে থাকা ছাত্রদের কাছে।
এক উদ্ধারকর্মী নানাং সিগিত বলেন, “আমরা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়াদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। কয়েকটি মৃতদেহ দেখা গিয়েছে, কিন্তু আমাদের অগ্রাধিকার জীবিতদের উদ্ধার।”
আহতদের মধ্যে অনেকে মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ইতিমধ্যেই এক ১৩ বছর বয়সি ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতের সংখ্যা প্রায় ৯৯। আতঙ্কে রয়েছেন পরিবার-পরিজন।
স্কুলের বাইরে ও হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। কেউ নামাজঘরের বাইরে নিখোঁজ সন্তানের নামের তালিকা দেখে ভেঙে পড়ছেন, কেউ বা উদ্ধারকর্মীর হাত ধরে কাকুতি-মিনতি করছেন প্রিয়জনকে বের করে আনার জন্য।
নির্মাণে গাফিলতির অভিযোগ
প্রাদেশিক পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, যে পুরনো ভবনটিতে ছাত্ররা প্রার্থনা করছিল সেটি মূলত দু’তলা ছিল। তবে বেআইনিভাবে আরও দু'টি তলা যোগ করার কাজ চলছিল। সেই বাড়তি কংক্রিটের চাপ সামলাতে না পেরে ভবনটি ভেঙে পড়ে।
এই ঘটনায় স্কুল প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্প্রসারণের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।