
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 April 2024 08:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর থেকে এতদিন পর্যন্ত পাকিস্তানের অন্তত ২০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। জঙ্গি দমনের উদ্দেশ্য নিয়ে এই নির্দেশ দিয়েছিল ভারত সরকার! এমনই দাবি করা হয়েছে একটি রিপোর্টে। যদিও সেই রিপোর্ট ভুয়ো বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, ভারত বিরোধী খবর ছড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।
ব্রিটেনের এক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, পুলওয়ামা হামলার পর থেকে জঙ্গি সন্দেহে পাকিস্তানের অন্তত ২০ জনকে নিকেশ করেছে ভারতের গুপ্তচর সংস্থা 'র'। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দুই দেশের গোয়েন্দা বিভাগের কিছু শীর্ষ আধিকারিকের সাক্ষাৎকার এবং পাকিস্তানের তরফে দেওয়া কিছু তথ্য এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করে। তাঁরা বলছে, বিগত কয়েক বছরে পাকিস্তানের মাটিতে ধারাবাহিক ভাবে খুন হয়েছে ভারত বিরোধী বহু জঙ্গি নেতা।
বেশ কিছু বছর ধরে পাকিস্তান দাবি করছিল, ভারতের গোয়েন্দারা সে দেশে ঢুকে একাধিক ব্যক্তিকে খুন করেছে। পরে খবর মিলেছিল, যারা খুন হয়েছেন তারা আদতে ভারত বিরোধী জঙ্গি নেতা। এবার বিখ্যাত ব্রিটিশ দৈনিক সংবাদপত্র 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর এক রিপোর্টে একই দাবি করা হয়েছে। তাঁরা বলছে, বিদেশের মাটিতে ভারত বিরোধী জঙ্গিদের খতম করতে দিল্লির সরকারই নাকি একাধিক খুনের নির্দেশ দিয়েছে। এমনকী কানাডা ও আমেরিকায় খলিস্তানি জঙ্গিদের খতম করার নেপথ্যে দিল্লির হাত থাকতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে রিপোর্টে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই রিপোর্টকে মানতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, পুরোপুরি ভুল তথ্যে ভরা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এমন কোনও ঘটনার সঙ্গে ভারত জড়িত নয়। দেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এমন করা হচ্ছে।
ব্রিটেন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে অবশ্য যা বলা হয়েছে তা বিস্ফোরক। দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের জঙ্গি দমনের ছক সাজানোর আগে ভারত ইজরায়েলের 'মোসাদ', রাশিয়ার 'কেজিবি'র থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, পাকিস্তানের মতোই কানাডা একই অভিযোগ করেছিল ভারতের বিরুদ্ধে। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুোডোর দাবি ছিল, খালিস্তানি জঙ্গি হরদীপ নির্জরের হত্যার পিছনে ভারত রয়েছে। 'র' এই কাজ করেছে। সেই দাবি ঘিরেও তোলপাড় হয়েছিল বিশ্ব।
প্রসঙ্গত, গত শনিবারই শেখ জামিল-উর-রহমান নামে এক ভারত বিরোধী জঙ্গি খুন হয়েছে পাকিস্তানে। ভারতের 'মোস্ট ওয়ান্টেড' তালিকায় ছিল সে। এর আগে গতবছরের অক্টোবরে পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকবাজের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিল জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-জব্বরের প্রতিষ্ঠাতা দাউদ মালিক।