
ভারত-বাংলাদেশ
শেষ আপডেট: 9 April 2025 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো:ভারতীয় ভূখণ্ড (Indian territory) ব্যবহার করে নেপাল (Nepal), ভুটান (Bhutan) ও মায়ানমারে (Myanmar) পণ্য আনা-নেওয়া (transshipment) করত বাংলাদেশ (Bangladesh)। পড়শি দেশকে আর সেই সুবিধা দেওয়া হবে না। ভারত সরকার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে নেপাল, ভুটান, মায়ানমারগামী গাড়িগুলিকে মালপত্র খালাস করে দ্রুত বাংলাদেশ ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের সঙ্গে নয়াদিল্লির এই সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক আছে কি? কূটনৈতিক সূত্র এমন সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করেছে। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, মার্কিন শুল্ক নীতির প্রভাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যদিও ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, দু'দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলে এই জাতীয় পদক্ষেপ করার আগে ভারতকে অনেক ভাবনাচিন্তা করতে হত। ২০২০-র জুন থেকে ভারত এই সুবিধা বাংলাদেশকে দিয়ে আসছিল।
সরকারি সূত্রে অবশ্য বলা হয়েছে, আমেরিকা চড়া হারে আমদানি শুল্ক চাপানোয় ভারতের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। অন্যদিকে, নেপাল, ভুটান, মায়ানমারের ভারতের স্থল সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য রফতানি করে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, রেডিমেড গারমেন্টস, মাছ-সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, ফল ইত্যাদি। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রের খবর, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বহুদিন ধরে বাংলাদেশের এই সুবিধা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ভারতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে ভারত সরকার উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে পণ্য সরবরাহ করে থাকে। বাংলাদেশ এখন সেই সুবিধা প্রত্যাহার করে নেবে কিনা, সেটাই এখন দেখার। যদিও ভারত ওই সুবিধার বিনিময়ে তৃতীয় কোনও দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করে না।
ভারত সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাংলাদেশের এখন নেপাল, ভুটানে পণ্য পাঠাতে হলে আকাশপথ ব্যবহার করা ছাড়া উপায় থাকবে না। তাতে খরচ অনেক বেশি হবে। তাছাড়া, এই সব দেশের মধ্যে কার্গো বিমান খুব কম চলাচল করে। ফলে নেপাল, ভুটানে বাংলাদেশ সহজে পণ্য পাঠাতে পারবে না। সেই সুযোগ ভারতীয় বণিকেরা নিতে চাইছে।
ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অজয় সহায় বলেন, এখন থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এই তিন দেশে আরও বেশি পরিমাণে পণ্য রফতানি করতে পারবেন।
ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশেই প্রশ্ন উঠেছে৷ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভসয়ের (Global trade research initiatives) প্রধান অজয় শ্রীবাস্তবের মতে, ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে নেপাল ও ভুটানও সমানভাবে সমস্যায় পড়বে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম হল, সমুদ্র ব্যবহারের সুযোগ নেই এমন দেশগুলিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অন্য দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিতে বাধ্য।