হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েছে ভারত।

ভারতের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক
শেষ আপডেট: 24 October 2025 08:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের জ্বালানি নীতি নিয়ে ফের নতুন বিতর্ক। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েছে ভারত। তবে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, তাদের সিদ্ধান্ত একান্তই জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, বাইরের কোনও চাপের কারণে নয়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হওয়ায় হতাশ। তিনি চান, নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়ার অর্থনীতিতে বড় আঘাত হানতে।
তিনি বলেন, “নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো যথেষ্ট কঠিন। আমরা জেনেছি, চিন ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়েছে। ভারতও প্রেসিডেন্টের অনুরোধে একই কাজ করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলিকেও আমরা রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করতে অনুরোধ জানিয়েছি।”
এই মন্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়ার দুই বৃহত্তম তেল সংস্থা—রসনেফট ও লুকয়েল—এর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই। লেভিট বলেন, “এটি একপ্রকার সর্বাত্মক চাপ প্রয়োগের কৌশল। আমরা আশা করছি, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।”
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত নিকট ভবিষ্যতে রাশিয়ান তেল আমদানি কিছুটা কমাতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো নতুন করে চুক্তি পর্যালোচনা করছে যাতে রসনেফট বা লুকয়েল থেকে সরাসরি আমদানি না হয়।
তবে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এটি কোনও যৌথ সিদ্ধান্ত নয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক বলেছে, “আমাদের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণ স্বাধীন। এর মূল লক্ষ্য হল ভোক্তাদের জন্য স্থিতিশীল দাম ও নির্ভরযোগ্য তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা।”
এই অবস্থান সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের হতাশা বাড়ছে। পুতিন যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনায় পর্যাপ্ত আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প।
লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট সবসময় বলেছেন, তিনি প্রয়োজন বোধ করলে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন। গতকাল ছিল সেই দিন। তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেন—দু’পক্ষের প্রতিই হতাশ। বিশেষ করে পুতিন সম্প্রতি শান্তির পথে যথেষ্ট উদ্যোগ দেখাননি।”
আগামী কয়েক মাসে ট্রাম্প–পুতিন বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত সেটি স্থগিত করা হয়েছে। লেভিট বলেন, “বৈঠক বাতিল হয়নি, তবে আমরা চাই, যখনই হবে, তা যেন ফলপ্রসূ হয় এবং প্রেসিডেন্টের সময়ের যথাযথ ব্যবহার হয়।”
মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবন্ধুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এই অর্থনৈতিক চাপের কৌশল সফল হবে না। কোনও আত্মসম্মানী দেশ কখনও চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেয় না।” পুতিন আরও দাবি করেন, এই নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব ফেলবে না এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ করবে।