ভারত সরকার এই বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে যে, প্রতিবেশী এবং বন্ধু রাষ্ট্র হিসাবে ভারত আশা করে যে, সমস্ত পক্ষ সংযম বজায় রাখবে। এর পাশাপাশি শান্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 September 2025 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালে (Nepal) সাম্প্রতিক হিংসাত্মক ঘটনার জেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত (India)। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ভারত সরকার ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নেপালের হিংসাত্মক আন্দোলনে (Gen-Z Protest) ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি, নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে ভারত সরকার।
ভারতের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমরা গতকাল থেকে নেপালের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা মৃত্যুর ঘটনা এবং ক্ষয়ক্ষতির জন্য গভীরভাবে শোকাহত। আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে আছে। যারা আহত হয়েছেন, আমরা তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।"
ভারত সরকার এই বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে যে, প্রতিবেশী এবং বন্ধু রাষ্ট্র হিসাবে ভারত আশা করে যে, সমস্ত পক্ষ সংযম বজায় রাখবে। এর পাশাপাশি শান্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। এই পরিস্থিতিতে নেপাল সরকার কাঠমান্ডু ও আরও কয়েকটি শহরে কার্ফু জারি করেছে। নেপালে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং নেপালি কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা মেনে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই আন্দোলন
নেপাল সরকার বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। জানা গেছে, গত সপ্তাহের শেষে সরকার ফেসবুক-সহ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর জেরেই বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। নেপালের তরুণ প্রজন্ম এই পদক্ষেপকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তারা মনে করছে, সরকার দুর্নীতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবের মতো মূল সমস্যাগুলি সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।
সরকারের দাবি, ভুয়ো তথ্য এবং ঘৃণা ভাষণ ছড়ানো রুখতে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা এটাকে ‘জেনারেশন জি’-এর আন্দোলন বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, এই আন্দোলন তরুণ প্রজন্মের গভীর হতাশার প্রতিফলন। এই হতাশা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের দুর্নীতি দমন নীতির দুর্বলতার বিরুদ্ধে।
কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন অফিস রাজধানীর রিং রোড এলাকার ভিতরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারি করেছে। কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসক ছবিল্লাল রিজাল জানিয়েছেন, নতুন করে বিক্ষোভ ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, লালিতপুর জেলাতেও মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত কার্ফু জারি করা হয়েছে।
সরকারের ভূমিকা
দেশের প্রধানমন্ত্রী এই হিংসার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই ঘটনার জন্য 'অনুপ্রবেশ'কে দায়ী করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, সরকার নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, যা ১৫ দিনের মধ্যে ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করবে।
যদিও কার্ফু অগ্রাহ্য করেই ললিতপুর, বিরাটনগর, পোখরা ও কাঠমান্ডু সহ বিভিন্ন শহরে বিশাল বিক্ষোভ চলছে। কাঠমান্ডুর নিউ বানেশ্বর ও অন্যান্য জায়গায় রাতভর ঠায় বসে রয়েছে ছাত্র-যুব-তরুণ সমাজের ছেলেমেয়েরা। যাদের সমর্থন করছে দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও।