
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 December 2024 08:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার বেজিংয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসতে চলেছে। সেই বৈঠকের প্রাকাল্যে চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতিতে এই বৈঠকের গুরুত্ব নিয়ে বলেছে, নয়া দিল্লির সঙ্গে বেজিং আন্তরিক সম্পর্ক রেখে কাজ করতে আগ্রহী। ভারত ওই বিবৃতিতে স্বাগত জানিয়েছে। দুই দেশের ইতিবাচক মনোভাব এবং ‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই’ বার্তার আবহে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বেজিংয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী তথা দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ওয়াং ই।
দু-দেশের বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হল সীমান্তে সেনা সরানোর আংশিক সাফল্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পূর্ব লাদাখের ডেমচক ও ডেপসাং থেকে গত ২১ অক্টোবর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছে দুই দেশ। সীমান্তের বাকি জায়গায় একইভাবে সেনা প্রত্যাহারের আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাবেন ডোভাল এবং ওয়াং ই।
বৈরিতা দূরে ঠেলে দুই দেশের বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়া এবং সীমান্তের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভারত ও চিনের কাছাকাছি আসার পিছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিরে আসার যোগসূত্র হয়েছে।
ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি নিয়ে দুই দেশই চিন্তিত। গত সোমবারও হবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের নাম করে বলেছেন, ভারত সরকার কর চাপালে আমরাও চাপাব। রাজস্বে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমেরিকায় ব্যবসা করতে হলে আমাদের নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে।
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা প্রথম’ বিদেশ নীতির ‘কর-বাণিজ্য’ পরিকল্পনা নিয়ে চিন, ভারতের মতো বহু দেশ চিন্তিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল হলেও বাণিজ্য নীতিতে ভাবী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতকে ছাড় দেবেন না, এটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। নির্বাচনী প্রচারেও সে কথা বলেছিলেন ট্রাম্প।
অনেকেই মনে করছেন, এই কারণেই বৈরিতা ভুলে বেজিং ও নয়াদিল্লি কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে। সেই সম্ভাবনাকে প্রশস্ত করতে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে দুই দেশ। এই শীতে আলোচনায় বরফ গলানোর উদ্দেশ্য যাতে আগামী গ্রীষ্মে ফের আর এক দফা সেনা সরাতে সম্মত হয় বেজি, দিল্লি।