খুনের মূল অভিযুক্ত ফয়জল করিম মাসুদ সাফ এই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

বাংলাদেশি পুলিশের অভিযোগ ছিল, খুনের পর ফয়জল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে।
শেষ আপডেট: 1 January 2026 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের ভারত-বিরোধী ছাত্র নেতা ওসমান হাদি খুনের তদন্তে নয়া মোড়। খুনের মূল অভিযুক্ত ফয়জল করিম মাসুদ সাফ এই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। বাংলাদেশি পুলিশের অভিযোগ ছিল, খুনের পর ফয়জল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। সেকথাও উড়িয়ে দিয়ে মাসুদ জানিয়েছেন যে, তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে আছেন।
একটি ভাইরাল ভিডিও বার্তায় (যার সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল) মাসুদ দাবি করে বলেন, তিনি হাদিকে খুন করেননি। এই খুনের পিছনে রয়েছে কট্টরপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীরা। মাসুদ মেনে নিয়েছেন যে, খুনের ঠিক আগে তিনি হাদির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিছকই ব্যবসায়িক।
স্বভাবতই এই ভিডিও বার্তায় হাদি খুনের রহস্য আরও দানা বেঁধেছে। পাকিস্তানের সুরেই হাদি খুনের পর থেকে বাংলাদেশ পুলিশ ভারতের কোর্টে বল ঠেলার চেষ্টা করছিল। হাদির খুনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে পড়শি দেশে গা ঢাকা দিয়ে আছে বলে তারা প্রচার করছিল। যদিও প্রথম থেকেই ভারত এই ঘটনার নিন্দা করে এবং খুনের অভিযুক্ত এদেশে লুকিয়ে রয়েছে বলে অস্বীকার করেছে।
ভিডিও বার্তায় বলা হয়েছে, আমি ফয়জল করিম মাসুদ। আমি পরিষ্কার জানাতে চাই যে, আমি কোনওভাবেই হাদি খুনের সঙ্গে জড়িত নই। এই ঘটনায় আমাকে মিথ্যা জড়ানো হয়েছে। পুরোটাই সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। এই মিথ্যা অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়ায় আমি বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়েছি। এবং দুবাইয়ে এসে রয়েছি। আমি অনেক অসুবিধার মধ্যেও এখানে এসেছি, কারণ আমার কাছে পাঁচবছরের বহুবার যাতায়াতের দুবাই-ভিসা রয়েছে।
অভিযুক্ত ফয়জল আরও বলেছেন, তিনি নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ইচ্ছাকৃত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমার পরিবার কোনওভাবেই জড়িত না হওয়া সত্ত্বেও দেশে আমার আত্মীয়স্বজনের উপর নির্মম অমানবিক ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি এর প্রতিবাদ করছি। হাদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে ফয়জল বলেন, হ্যাঁ। আমি হাদির কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। আমি একজন ব্যবসায়ী। আমার একটি আইটি কোম্পানি রয়েছে। আমি এর আগে দেশের অর্থ মন্ত্রকে চাকরিও করেছি। আমি হাদির কাছে গিয়েছিলাম চাকরির বিষয়ে। ও আমাকে চাকরি করিয়ে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং অগ্রিম বাবদ টাকা চেয়েছিল।
ফয়জল আরও বলেন, সেই মতো আমি ওকে ৫০০,০০০ টাকা দিয়েছিলাম। ও তখন আমাকে ওর বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য চাঁদা দিতে বলে। ও যেমনভাবে বলেছে, আমি ওকে সেই ভাবে টাকা দিয়েছি। গত শুক্রবারও আমি ওকে একটি প্রোগ্রামের খরচ জুগিয়েছি। হাদির খুনের পিছনে জামাতকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ফয়জল। তিনি দাবি করে বলেন, এই ছাত্র নেতা আসলে জামাতেরই জমির ফসল। ওকে জামাতি গুন্ডারাই খুন করেছে। তাঁর দাবি, এই ঘটনা জামাতের কাজ। আমি কিংবা আমার ভাই ওই মোটর সাইকেলে ছিলাম না।