শুক্রবার ‘এক্স’-এ মাচাদো লেখেন, “এই পুরস্কার আমি উৎসর্গ করছি ভেনেজুয়েলার কষ্টভোগী জনগণ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে— আমাদের লড়াইয়ে তাঁর দৃঢ় ও নির্ণায়ক সমর্থনের জন্য।”

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 10 October 2025 20:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৫ (Nobel Peace Prize Winner 2025) জিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো (Maria Corina Machado)। আর পুরস্কার জয়ের পরেই এক আবেগঘন বার্তায় তিনি সেই সম্মান উৎসর্গ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump)।
শুক্রবার ‘এক্স’-এ মাচাদো লেখেন, “এই পুরস্কার আমি উৎসর্গ করছি ভেনেজুয়েলার কষ্টভোগী জনগণ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে— আমাদের লড়াইয়ে তাঁর দৃঢ় ও নির্ণায়ক সমর্থনের জন্য।”

‘স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে আমরা’
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও একনায়কতন্ত্র থেকে শান্তিপূর্ণ উত্তরণের সংগ্রামে তাঁর অনড় ভূমিকার জন্য মাচাদোকে বেছে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের নামে ছলচাতুরী করে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাচাদোই ছিলেন বিরোধীদের প্রধান মুখ। ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি ও গোপনে আত্মগোপনে থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেছেন, “এই স্বীকৃতি কেবল আমার নয়, প্রতিটি ভেনেজুয়েলানের। আমরা স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে। এই লড়াইয়ে আজ, আগের চেয়ে অনেক বেশি, আমাদের পাশে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, মার্কিন জনগণ, লাতিন আমেরিকার দেশগুলি এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলি।”
ট্রাম্পের কাছে এ বছর ছিল বড় আশার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবিদার বলে দাবি করে আসছিলেন। যুক্তি দিয়েছিলেন— তিনি “আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন” এবং গাজা শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটি বেছে নেয় মাচাদোকে।
তবু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ভাবমূর্তি এতে ক্ষুণ্ণ হয়নি। বরং মাচাদোর মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি পাওয়ায় তাঁর অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে।
গত অগস্টেই মাচাদো ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেফতারের জন্য পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৫০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করে।
মার্কিন প্রশাসন মাদুরোকে ঘোষণা করেছে “আমেরিকান আইনের পলাতক অপরাধী” হিসেবে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁকে বলেছেন “মাদক চক্রের প্রধান” এবং “অবৈধ শাসক”। নোবেল জয়ীর ভাষায়, “ট্রাম্প প্রশাসনের দৃঢ় পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলাকে অপরাধ ও সন্ত্রাসের কবল থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করছে।”
‘ভেনেজুয়েলার আয়রন লেডি’
মাচাদোকে ভেনেজুয়েলায় অনেকেই ডাকেন ‘আয়রন লেডি’ নামে। তিনি শুধু বিরোধী নেত্রী নন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক। একাধিকবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে নির্যাতনও ভোগ করতে হয়েছে।
তবু থেমে যাননি লৌহমানবী। টাইম ম্যাগাজিন-এর ‘২০২৫ সালের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা’-তেও জায়গা পেয়েছেন এই দৃঢ় নেত্রী। নোবেল কমিটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “মাচাদো শান্তির এক সাহসী ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যোদ্ধা। তিনি গণতন্ত্রের আলোকশিখা জ্বালিয়ে রেখেছেন এক ক্রমবর্ধমান অন্ধকার সময়ের মধ্যেও।”