সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক চলাকালীন তিনি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির কাছে নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করে ইস্তফাপত্র জমা দেন।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 8 September 2025 20:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক (Ramesh Lekhak)। দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক চলাকালীন তিনি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির কাছে নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করে ইস্তফাপত্র জমা দেন।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে (Nepal social media ban protest) এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। আরও বহুজন আহত অবস্থায় কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কাঠমান্ডুর (Kathmandu) রাস্তায় সোমবার ফেটে পড়ে তীব্র জনরোষ। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব-সহ জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানালেন।
বিক্ষোভের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ায় ভারত-নেপাল সীমান্তেও জারি হয়েছে সতর্কতা। সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (SSB) নজরদারি আরও বাড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যারিকেড টপকে সংসদ ভবন ঘিরে ফেলে এবং ভিতরে ঢুকে যায়। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর খবর, প্রধানমন্ত্রী ওলির নিজ শহর দামাকে তাঁর বাড়িতেও বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোড়ে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালায় পুলিশ।
রাস্তায় গর্জন শোনা যায়, “সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলুন, দুর্নীতি বন্ধ করুন, সোশ্যাল মিডিয়া নয়।” প্রতিবাদকারীদের অনেকের হাতেই ছিল নেপালের লাল-নীল জাতীয় পতাকা। এই আন্দোলনকে বহু সংবাদমাধ্যমে Gen Z Protest বলা হয়েছে, কারণ মূলত ১৯৯৫ থেকে ২০১০-এর মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ-তরুণীরাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন অফিসের নির্দেশে রাজধানীর সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন, সরকার সচিবালয়-সহ নিরাপত্তা জোনে কারফিউ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বুটওয়াল, ভৈরহাওয়া, ইটাহারি ও দামাকেও কারফিউ-এর আওতায় আনা হয়েছে।
স্থানীয় সংগঠন হামি নেপাল প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এই মিছিল করে। প্রতিবাদের রুট ও নিরাপত্তা বার্তা শেয়ার করার জন্য সংগঠকরা নিজেরাই সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্য নিয়েছিলেন।