দুই বছর পর গাজা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন ৪৮ বন্দি, ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া। জানা গেছে, তাদের মধ্যে মাত্র ২০ জন জীবিত।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 13 October 2025 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই বছরের দীর্ঘ বন্দিদশার পর গাজা থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন কয়েক ডজন ইজরায়েলি বন্দি। সোমবার ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, হামাস প্রায় ২,০০০ জন বন্দির বিনিময়ে এই ৪৮ জনকে মুক্তি দিতে চলেছে।
ইজরায়েলের দাবি, গাজায় এখনও ৪৮ জন বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ ইজরায়েলের নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল থেকে অপহৃত হয়েছিলেন এরা, কেউ আবার কিব্বুতজ এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে। রয়েছেন ২৪ বছরের এভিয়াতার ডেভিড, অগস্ট মাসে প্রকাশিত এক হামাসের ভিডিওতে যাকে নিজের কবর খুঁড়তে দেখা গিয়েছিল, শরীর ছিল হাড়জিরজিরে। রয়েছেন তরুণ পিয়ানোবাদক আলন ওহেল (২৪) এবং আভিনাতান অর (৩২)। অরের বান্ধবী নোয়া আরগামানি-র অপহরণের ভিডিও এক সময় সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়, কাঁদতে কাঁদতে প্রেমিকের দিকে হাত বাড়িয়ে হাঁটতে দেখা গেছিল তাঁকে। নোয়া-কে গত জুন মাসে উদ্ধার করে ইজরায়েলি বাহিনী।
সাতজন বন্দি নিজেদের কিব্বুতজের ঘর থেকে অপহৃত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২৮ বছর বয়সি যমজ গালি ও জিভ বারম্যান, এবং ভাই এরিয়েল কুনিও (২৮) ও ডেভিড কুনিও (৩৫)। ডেভিডকে অপহরণ করা হয়েছিল তাঁর স্ত্রী শ্যারন ও দুই ছোট মেয়ের সঙ্গে। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সময় তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
দু’জন ইজরায়েলি সেনাও এখনও হামাসের হাতে বন্দি রয়েছেন, মাতান অ্যাংগ্রেস্ট (২২) এবং নিমরড কোহেন (২০)। তাঁরা দু’জনেই ৭ অক্টোবরের যুদ্ধে হামাসের হাতে ধরা পড়েন।
৪৮ জন বন্দির মধ্যে রয়েছেন চারজন বিদেশি। তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, একজন তানজানিয়ান ছাত্র এবং দু’জন থাই শ্রমিক। অন্য বিদেশি বন্দি, নেপালের ছাত্র বিপিন জোশি-র খোঁজ এখনও মেলেনি। ইজরায়েল জানিয়েছে, ২৬ জন বন্দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত। ফরেনসিক রিপোর্ট ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে দু’জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
হামাস জানিয়েছে, নিহত বন্দিদের দেহ উদ্ধারে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কারণ সব কবরের স্থান তাদের জানা নেই। এজন্য একটি আন্তর্জাতিক টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই মৃতদের মধ্যে রয়েছেন একজন ইজরায়েলি সৈন্য, যিনি ২০১৪ সালের ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন। বাকিরা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় অপহৃত হন। কেউ কেউ অপহরণের সময়ই মারা যান, আবার কেউ হামাসের হাতে খুন হন বা গাজায় ইজরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারান।