বিলুপ্তির আশঙ্কা কাটিয়ে কঙ্গোর ভিরুঙ্গা পার্কে ফের গরিলার যমজ সন্তানের জন্ম। দু’মাসে দ্বিতীয়বার এই বিরল ঘটনা, সংরক্ষণে নতুন আশার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

গরিলা
শেষ আপডেট: 25 March 2026 10:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’মাসে দু’বার বিরল ঘটনা। কঙ্গোর (Democratic Republic of Congo) ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে (Virunga National Park) জন্ম নিল পাহাড়ি গরিলার (Mountain Gorilla) আরও এক জোড়া যমজ সন্তান (Twin Birth)। সংরক্ষণবিদদের (Conservationists) কাছে এই খবর বড় স্বস্তির, কারণ বিপন্ন এই প্রজাতির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
এইবার বারাকা পরিবারে (Baraka Family) দেখা গিয়েছে এক পুরুষ ও এক স্ত্রী শাবককে। মোট ১৯টি গরিলার এই দলে নতুন অতিথিদের ঘিরে বাড়ছে আশার আলো। এর আগে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বাগেনি পরিবারে (Bageni Family) ২২ বছর বয়সী মা মাফুকোর (Mafuko) কোলেও জন্ম নিয়েছিল দুই পুরুষ শাবক। বর্তমানে ১১ সপ্তাহ বয়সী সেই শাবকরাও সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, যমজ সন্তানের জন্ম সাধারণত তখনই হয়, যখন স্ত্রী গরিলারা শারীরিকভাবে (Physical Condition) সুস্থ ও শক্তিশালী থাকে। একই সঙ্গে দলের অন্যান্য সদস্যরাও মাকে সাহায্য করছে—যা গরিলা সমাজে (Gorilla Social Behaviour) একতা ও সহযোগিতার লক্ষণ।
ভিরুঙ্গা পার্কের গরিলা মনিটরিংয়ের (Gorilla Monitoring) প্রধান জ্যাক ক্যাটুটু (Jacques Katutu) বলেন, “তিন মাসের মধ্যে দু’বার যমজ সন্তানের জন্ম সত্যিই অসাধারণ। পূর্ব কঙ্গোর অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও যে সংরক্ষণ প্রচেষ্টা (Conservation Efforts) সফল হচ্ছে, এটি তারই প্রমাণ।”
উল্লেখ্য, পাহাড়ি গরিলার ক্ষেত্রে যমজ জন্ম অত্যন্ত বিরল—মোট জন্মের মাত্র ১ শতাংশের মতো। জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস শাবকরা পুরোপুরি মায়ের উপর নির্ভরশীল থাকে, ফলে যমজদের লালনপালন (Infant Care) আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তাই তাদের উপর বিশেষ নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা (Monitoring & Protection) নেওয়া হচ্ছে।
সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বিশেষ পশুচিকিৎসা (Veterinary Care)। রুয়ান্ডা (Rwanda), উগান্ডা (Uganda) ও কঙ্গো জুড়ে ‘গরিলা ডক্টরস’ (Gorilla Doctors)-এর মতো সংস্থা বহু গরিলার প্রাণ বাঁচিয়েছে, বিশেষ করে শিকারিদের ফাঁদে (Poachers’ Snares) আটকে পড়া প্রাণীদের উদ্ধার করে।
এক সময় ১৯৭০-এর দশকে সংখ্যা নেমে এসেছিল মাত্র ২৫০-তে। বিলুপ্তির (Extinction) আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ধারাবাহিক সংরক্ষণ প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালে সংখ্যা হাজার (Population 1000+) ছাড়ায়। ফলে ‘ক্রিটিক্যালি এন্ডেঞ্জার্ড’ (Critically Endangered) থেকে ‘এন্ডেঞ্জার্ড’ (Endangered) হিসেবে পুনর্বিন্যাস করা হয় এই প্রজাতিকে।
১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক আফ্রিকার (Africa) প্রাচীনতম সংরক্ষিত অরণ্য। আর সেখানেই এই বিরল যমজ জন্ম নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে গরিলা সংরক্ষণে।