
শেষ আপডেট: 16 October 2023 19:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখ জুড়ে ছিল হাজারো স্বপ্ন। ফ্যাশন জগতে নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। সবে শুরু হয়েছিল সেই স্বপূরণের যাত্রা। কিন্তু মাঝপথে মাত্র ২৬ বছরেই মারণ রোগে সব শেষ। প্রয়াত হলেন প্রাক্তন মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগী শেরিকা দ্য আরমাস।
উরুগুয়ের বাসিন্দা ছিলেন শেরিকা। ২০১৫ সালে তিনি মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেন । সার্ভিক্যাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন শেরিকা। বেশ অনেকদিন ধরেই নিয়মিত কেমোথেরাপি ও রেডিয়োথেরাপি চলছিল তাঁর। দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মারণ যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য হলেন। যৌবনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ফ্যাশন কুইন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার সহ সহকর্মীরা। মনখারাপ গোটা উরুগুয়ের মানুষেরও।
বরাবরই ফ্যাশন সংক্রান্ত বিষয় ভালোবাসতেন শেরিকা। ছোট থেকেই মডেল হওয়ার ইচ্ছে ছিল তাঁর। আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি সবসময় বিউটি মডেল, ক্যাটওয়াক মডেল হতে চাইতাম। আসলে আমি ফ্যাশন সংক্রান্ত সব কিছুই ভীষণ ভালবাসি।” মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর নিজের মেকআপ ব্র্যান্ডও খুলেছিলেন তিনি। এ ছাড়াও ক্যানসারে আক্রান্ত দুঃস্থ শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
এত অল্প বয়সে শেরিকার মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি ফ্যাশন জগতের কেউই। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পরিবারকে শক্ত হওয়ার আবেদন জানিয়ছেন তাঁর অনুরাগীরা। বন্ধুর মৃত্যুতে শোকাহত ২০২২ সালে মিস ইউনিভার্স উরুগুয়ে কার্লা রোমেরো। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন , “আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দর নারী।" স্মৃতিচারণ করেছেন মিস উরুগুয়ে ২০২১ লোলা দে লস সান্তোসও। আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি লিখেছেন, “সারাজীবন তোমাকে মনে রাখব। শুধুমাত্র আমার পাশে থাকার জন্য নয়, তুমি চাইতে আমি এগিয়ে যাই, নাম করি… তোমার আদর, ভালবাসা সারজীবন আমার সঙ্গে থেকে যাবে।”
প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে পৃথিবী জুড়ে সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের আক্রান্ত বহু নারী। ২০১৮ সালে প্রায় ৩ লক্ষ ১১ হাজার মহিলা ক্যানসারে মারা গিয়েছেন। এইচপিভি টিকা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাই এই ক্যানসার রুখে দিতে পারে বলে দাবি ওই সংস্থার।