সে বিশ্বাস করত তার ছেলে ‘অশুভ’, ‘অভিশপ্ত’, এমনকী ‘তার মধ্যে কোনও শয়তানের অস্তিত্ব রয়েছে’। তার ভয় ছিল যে, এই ছেলেই তার যমজ সন্তানদের ক্ষতি করবে।

মার্কিন নাগরিক সিন্ডি রড্রিগেজ সিং
শেষ আপডেট: 2 July 2025 19:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন নাগরিক সিন্ডি রড্রিগেজ সিং এখন এফবিআই (FBI)-এর ‘দশজন মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতকের’ (Ten Most Wanted Fugitives) তালিকায়। ভারত এবং মেক্সিকোর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ, সে নিজের ছ’বছরের ছেলে নোয়েল আলভারেজকে খুন করেছে। মঙ্গলবার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তার খোঁজে পুরস্কার বাবদ ২৫,০০০ ডলারের অঙ্ক বাড়িয়ে করেছে ২,৫০,০০০ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২.১ কোটি।
২০২৩ সালে ছেলেকে খুনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ‘ক্যাপিটাল মার্ডার’-এর মামলা রুজু হয়েছিল। সিন্ডিকে শেষবার দেখা গিয়েছিল টেক্সাসে, তাও ২০২৩-এর ২২ মার্চে। সেদিন সে স্বামী অর্জদীপ সিংহ ও ছয় সন্তানকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠেছিল, গন্তব্য ভারত। কিন্তু সঙ্গে তাদের ছ’বছরের ছেলে নোয়েল ছিল না, সে ফ্লাইটে ওঠেইনি।
The FBI is offering a reward of up to $250,000 for information leading to the arrest of Cindy Rodriguez Singh. Calls can be made to 1-800-CALL-FBI or to FBI Dallas at 972-559-5000. Tips can also be submitted digitally at https://t.co/gEDOPVZKar. https://t.co/gxbmUuCAPI pic.twitter.com/oHfjnz2HsI
— FBI Dallas (@FBIDallas) July 1, 2025
FBI-র ডালাস ইউনিটের স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ আর. জোসেফ রথরক বলেন, ‘নোয়েলের নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর সন্দেহ এখনও এভারম্যান শহর ও উত্তর টেক্সাসের মানুষদের মন থেকে মুছে যায়নি। সিন্ডি রড্রিগেজ সিংয়ের নাম এই তালিকায় উঠল, যাতে আমরা তার ব্যাপারে দেশ ও বিশ্বজুড়ে মানুষের সাহায্য পেতে পারি। আমরা নিশ্চিত, এই প্রচারের ফলে তাকে শিগগির গ্রেফতার করা যাবে।’
FBI Dallas hosted a press conference today to announce Cindy Rodriguez Singh as the 537th fugitive placed on the FBI’s Top Ten Most Wanted List. She is wanted for allegedly killing her 6-year-old son, Noel Alvarez. https://t.co/lZwTBE3xhb pic.twitter.com/u7qOJ5VVFA
— FBI Dallas (@FBIDallas) July 1, 2025
২০২২-এর অক্টোবর থেকে সিন্ডির ছেলে নোয়েলকে আর কেউ দেখেনি। সেই সময় সিন্ডি যমজ সন্তান প্রসব করে। ২০ মার্চ ২০২৩-এ, টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব ফ্যামিলি অ্যান্ড প্রোটেকটিভ সার্ভিসেস-এর অনুরোধে স্থানীয় এভারম্যান পুলিশ নোয়েলের খোঁজে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সিন্ডি জানান, নোয়েল নাকি মেক্সিকোতে সিন্ডির বাবার সঙ্গে থাকছে। কিন্তু পুলিশ পরে জানায়, এ সম্পূর্ণ মিথ্যে তথ্য। আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে সিন্ডির বিরুদ্ধে। সে নাকি বিশ্বাস করত তার ছেলে ‘অশুভ’, ‘অভিশপ্ত’, এমনকী ‘তার মধ্যে কোনও শয়তানের অস্তিত্ব রয়েছে’। সে ভয় পেত যে এই ছেলেই ভবিষ্যতে তার সদ্যোজাত যমজ সন্তানদের ক্ষতি করবে।
নোয়েলের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছিল। ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার কারণে তাকে নিয়মিত অক্সিজেন নিতে হতো। অথচ পুলিশের কথা অনুযায়ী, নোয়েলকে নিয়মিত খেতে তো দূরের কথা জল পর্যন্ত খেতে দেওয়া হত না, কারণ সিন্ডি তার ডায়াপার বদলাতে চাইত না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একবার জল খেতে চাইলে সিন্ডি চাবির গোছা দিয়ে তার মুখে আঘাত করে।
একাধিক মানুষকে সিন্ডি আলাদা আলাদা গল্প বলেছে। কখনও বলেছে নোয়েলকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়েছে, আবার একবার বলে এক ফিয়েস্তা মার্কেটের পার্কিংয়ে এক মহিলার কাছে নোয়েলকে “বেচে” দিয়েছে। কিন্তু পুলিশ জানিয়েছে, এই দাবির কোনও প্রমাণ নেই।
তদন্তে আরও উঠে আসে, অর্জদীপ ফ্লাইটে ওঠার আগের দিন এক কার্পেট ফেলে দেন বাইরের ডাম্পস্টারে। সেই কার্পেট ও তাঁদের বাড়ির নতুন প্যাটিওতে মানবদেহের অস্তিত্ব শনাক্তকারী পুলিশ কুকুর ‘অ্যালার্ট’ দেয়।
‘সিন্ডির নাম ‘FBI Most Wanted’ তালিকায় ওঠা নোয়েলের জন্য ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটা ওকে ও এই সমাজকে দেওয়া আমাদের প্রতিশ্রুতি — আমরা হাল ছাড়ব না,’ বলেন এভারম্যানের প্রাক্তন পুলিশপ্রধান ক্রেগ স্পেনসার।