দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেসবুকের (facebook) হল টা কী! দিনকয়েক আগে গোটা দুনিয়ায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা পুরোপুরি অচল (outage) হয়ে বসে গিয়েছিল। কার্যতঃ স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল বিশ্ব। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শুক্রবার দুঘন্টার মতো পরিষেবায় (services) গন্ডগোল হয় ফেসবুকের, যার ওপর ভরসা করে থাকেন কোটি কোটি সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী। ফেসবুক গতকালের পরিষেবা ব্যাঘাতের কথা মেনে নিয়ে ক্ষমা (apology) চেয়েছে। চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বার সমালোচনা, বিদ্রুপের মুখে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানাল, আরেকটি ভুল কনফিগারেশন বদলের জন্যই নতুন করে গন্ডগোল হয় গতকাল। ইনস্টাগ্রাম (instagram), মেসেঞ্জার (messanger), ওয়ার্কপ্লেস (workplace) কাজ করেনি বলে তারা নিজেরাই স্বীকার করেছে। বলেছে, গত কয়েক ঘন্টা আমাদের পরিষেবা অ্যাকসেস করতে পারেননি যাঁরা, তাঁদের কাছে আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। আমরা সমস্যা সমাধান করেছি, সব কিছুই এখন স্বাভাবিক।
গতকাল ফেসবুকের প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে গিয়ে কিছুই করতে পারেননি অসংখ্য মানুষ। অনেকে যেমন ইনস্টাগ্রাম ফিড আপলোড করতে পারেননি, তেমনই কেউ কেউ ফেসবুক মেসেঞ্জারেও বার্তা পোস্ট করতে পারেননি। সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর লোক ট্যুইটারে গিয়ে এক সপ্তাহে দুদুবার ফেসবুকের গন্ডগোল নিয়ে মিম, জোকস শেয়ার করেন। একজন ট্যুইট করেন, মনে হচ্ছে, ফেসবুক সপ্তাহে তিনদিন কাজের সিস্টেম চালু করেছে। সোমবার, শুক্রবার শাটডাউন! ইনস্টাগ্রাম চলতি সপ্তাহে যাবতীয় মিমের পর ব্যবহারকারীদের ধৈর্য্যের জন্য ধন্যবাদ দিয়েছে।
গত সোমবার প্রায় ৬ ঘন্টা স্তব্ধ ছিল ফেসবুক। প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ইউজার ফেসবুকে ঢুকতে পারেননি। হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জারের মতো মেসেজ পরিষেবাও বন্ধ ছিল। এজন্য ভুল কনফিগারেশন বদলকে দায়ী করেছিল ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ওয়েব মনিটরিং গ্রুপ ডাউনডিটেক্টর জানিয়েছে, ফেসবুকের এত লম্বা সময় অচল থাকার নজির নেই, যার জেরে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহারের ধুম পড়ে যায়।
মস্কোর কর্তাব্যক্তিরা বলেন, সোমবারের ঘটনা দেখিয়ে দিল, রাশিয়ার নিজস্ব সোস্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত কতটা ঠিক ছিল। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যান্টিট্রাস্ট প্রধান মার্গ্রেথ ভেস্টেগার মাত্র কয়েকটি বড় প্ল্যাটফর্মের ওপর ভরসা করে থাকার ফল কী হয়, তার উল্লেখ করে বুঝিয়ে দিতে চান, আরও প্রতিদ্বন্দ্বী থাকা কতটা জরুরি।
এক সপ্তাহে দুবার এমন হওয়ায় বিপাকে ফেসবুক। দুর্নীতি চিহ্নিতকারী অর্থাত হুইসলব্লোয়ার হওয়া তাদেরই এক প্রাক্তন কর্মী গত রবিবার ফেসবুককে কাঠগড়ায় তুলে ঘৃণা,বিদ্বেষ ছড়ানো বার্তা ও ভুল তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে তারা মুনাফার দিকে বেশি নজর দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।