আমেরিকার এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে ইরানের পারমাণবিক শক্তি দফতর।

শেষ আপডেট: 22 June 2025 09:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের ইসফাহান, নাতাঞ্জ এবং ফোর্দো—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একযোগে হামলার (US bombs Iran nuclear sites) পর উত্তেজনার পারদ চড়ল মধ্যপ্রাচ্যে। মার্কিন বোমার আঘাতে শনিবার এই তিনটি ঘাঁটিতে গুঁড়িয়ে দেওয়া বলে ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়েছে, ‘‘এখন থেকে প্রতিটি আমেরিকান নাগরিকই টার্গেট।’’
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসফাহানের গভর্নরের উপদেষ্টা আকবর সালেহি জানিয়েছেন, পারমাণবিক কেন্দ্রগুলির আশেপাশে বিস্ফোরণ প্রত্যক্ষ করেছেন বহু বাসিন্দা। তিনি জানান, ‘‘ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ অঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। তবে ওই তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্র আগেভাগেই খালি করে দেওয়া হয়েছিল।’’
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় পরমাণু কর্মসূচির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়বে না। এক উপস্থাপক বলেন, “ট্রাম্প সাধারণত বড় বড় কথা বলেন। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। তবে কিছু বোমা ফেলে আমাদের পারমাণবিক প্রযুক্তিকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়।”
এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে ইরানের পারমাণবিক শক্তি দফতর। তাদের বক্তব্য, ‘‘ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানে আমাদের পারমাণবিক কেন্দ্রে যে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের উপর স্পষ্ট আঘাত। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র নীরবতা বা সম্ভাব্য সহযোগিতা আমাদের আরও হতাশ করেছে।’’
তারা আরও জানিয়েছে, ‘‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত এই আইনবহির্ভূত আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং ইরানের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের পক্ষে কথা বলা।’’
সবচেয়ে বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির এক উপস্থাপক। যা তাদের সরকারি বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘‘এখন থেকে প্রতিটি মার্কিন নাগরিক এবং সেনা কর্মী আমাদের বৈধ লক্ষ্যে পরিণত হবে।’’
ইরান টিভিতে সরাসরি বলা হয়েছে, ‘‘এই যুদ্ধ এখনই শুরু হয়েছে, মিস্টার ট্রাম্প। এখন আপনি শান্তির কথা বলছেন? আমরা এমনভাবে জবাব দেব, যাতে আপনি বুঝতে পারেন বেপরোয়া কাজের পরিণতি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে।’’
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। পারমাণবিক স্থানে সরাসরি হামলার পরিণতি ঠিক কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। পাশাপাশি, ইরান-আমেরিকা সংঘাত আরও কতটা জটিল আকার নিতে পারে, সেটিও এখন নজরে বিশ্বের।