
শেষ আপডেট: 19 October 2023 11:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ত্রাণ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল মিশর। রাফা সীমান্ত খোলা নিয়ে এতদিন টালবাহানা চলছিল। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে শয়ে শয়ে ট্রাক অপেক্ষা করছিল রাফা ক্রসিংয়ে। কিন্তু মিশর সরকারের সবুজ সঙ্কেত পায়নি। প্রেসিডেন্ট আবদেল ফতাহ আল-সিসির সঙ্গে বুধবার রাতে টেলিফোনে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনার পরেই রাফা ক্রসিং খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
মিশর সরকার কড়াভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বাস্তহারা প্যালেস্তিনীয়দের জন্যই শুধু ত্রাণসামগ্রী যাবে। প্রাথমিকভাবে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ২০টি ট্রাক রাফা সীমান্ত পার হবে। প্যালেস্তিনীয় শরণার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে ত্রাণ। তবে ওই ত্রাণ যেন শুধুমাত্র প্যালেস্তিনীয় জনতার জন্যই ব্যবহৃত হয়, তার নিশ্চয়তা চেয়েছে মিশর সরকার।
প্রেসিডেন্ট আবদেল জানিয়েছেন, হামাস যোদ্ধারা যেন ওই ত্রাণ ব্যবহার না করে। যদি জানা যায় যে ত্রাণ হামাসদের কাছে পৌঁছচ্ছে, তাহলে আর কোনও মানবিক সাহায্য গাজায় পাঠানো হবে না।
এখনও পর্যন্ত ইজরায়েলি হামলায় লাখ লাখ গাজাবাসী ভিটেমাটি হারিয়েছেন। আইডিএফ জানিয়েছে, হামাসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে খতম করার পাশাপাশি কয়েকটি সুড়ঙ্গ নষ্ট করেছে আইডিএফ। সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাজার তিনেক রকেট নিষ্ক্রিয় করে ইজরায়েলি সেনা হামাসকে বড় ধাক্কা দিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে ইজরায়েলি সেনা ও হামাসের যুদ্ধে, হাজার হাজার নিরীহ প্যালেস্তিনীয় বাসিন্দার প্রাণ গেছে। যাঁরা কোনওরকমে বেঁচে গেছেন তাঁদের জন্য নিয়মিত ত্রাণ পাঠাতে কম করেও ১০০টা ট্রাক লাগবে। তাছাড়া ইউনিসেফের মেডিক্যাল কিট গাজার শিশুদের জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্যালেস্তাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎহীন শহরে এখনও পানীয় জলের সঙ্কট রয়েছে। একদিকে লাগাতার বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ভিটেমাটি ছেড়ে যে যেদিকে পারছেন পালাচ্ছেন। সহায় সম্বলহীন হয়ে যাঁরা রয়ে যাচ্ছেন তাঁরা খিদে-তেষ্টায় কাতর। বিদ্যুৎহীন গাজায় আহতদের চিকিৎসা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। পানীয় জলে মিশছে অস্ত্রের বিষ। হাসপাতালে ইজরায়েলি বোমারু বিমানের হানায় নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। সেখানে আহতদের অবস্থা সঙ্কটজনক। তাঁদের চিকিৎসাও অসম্ভব হয়ে উঠেছে। কাজেই সেখানেও স্বাস্থ্য পরিষেবা দরকার বলে জানিয়েছে প্যালেস্তাইন সরকার।