এ বছর শুরুর দিকে ওয়াশিংটন ও বেজিং একে অপরের পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে কিছুটা কমানো হলেও সেই উত্তেজনার প্রভাব এখনও বিদ্যমান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং
শেষ আপডেট: 2 October 2025 09:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার কৃষকদের (US Farmers) সমস্যার কথা তুলে ধরে ফের চিনকে (China) চাপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সঙ্গে বৈঠকে বসবেন, আর আলোচনার প্রধান বিষয় হবে একটি - মার্কিন সয়াবিন (Soybean) কেনা।
ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, ‘‘আমাদের দেশের সয়াবিন চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কারণ চিন সয়াবিন ক্রয় নিয়ে কোনও সমঝোতায় আসছে না।'' তিনি জানান, সিউলে আয়োজিত এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (APEC) সম্মেলনের ফাঁকে শির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে। আগামী বছর তিনি চিন সফরেও যাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আসলে ট্রাম্প মনে করেন, সয়াবিনই দুই দেশের বাণিজ্যিক দূরত্ব মেটাতে পারে।
শুল্ক-যুদ্ধের প্রভাব
এ বছর শুরুর দিকে ওয়াশিংটন ও বেজিং একে অপরের পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে কিছুটা কমানো হলেও সেই উত্তেজনার প্রভাব এখনও বিদ্যমান। মার্কিন সয়াবিন রফতানির অন্যতম বড় বাজার ছিল চিন। কিন্তু চিনের ২০ শতাংশ প্রতিশোধমূলক শুল্কের জেরে মার্কিন সয়াবিন বিক্রি এখন কার্যত বন্ধ।
আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশন (ASA) জানিয়েছে, নতুন মরসুমে চিনের কাছে মার্কিন সয়াবিন বিক্রি একেবারেই হয়নি। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ক্যালেব র্যাগল্যান্ডের অভিযোগ, ‘‘ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এখন আমাদের বাজার দখল করছে। এর ফল সরাসরি আমাদের কৃষকদের ঘাড়ে পড়ছে। হতাশা চরমে।’’
কৃষকদের ক্ষতিপূরণের পরিকল্পনা
ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, শুল্ক থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের একটি অংশ কৃষকদের সহায়তায় ব্যবহার করবেন। তাঁর অভিযোগ, আগের প্রশাসন জো বাইডেনের আমলে বেজিংয়ের সঙ্গে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করা হয়নি।
প্রথম দফায় ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীনই মার্কিন কৃষকদের বড় ধাক্কা খেতে হয়েছিল। ২০১৮ থেকে ২০১৯-এর মধ্যে প্রতিশোধমূলক শুল্কের ফলে মার্কিন কৃষিপণ্যের রফতানি ক্ষতি হয়েছিল ২৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠকে সয়াবিন ইস্যুতে সমঝোতা হলে মার্কিন কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। তবে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা এখনও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।