
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 9 April 2025 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'প্লিজ, প্লিজ স্যার! আমাকে একটা সুযোগ দিন। একটা রফায় আসুন। আমি সব কিছু করতে পারি। আপনি যা বলবেন তাই করতে রাজি আছি স্যার।' রিপাবলিকান কংগ্রেস কমিটির নৈশভোজে এই ভাষাতেই আমেরিকার শুল্কনীতির জাঁতাকলে পড়া দেশগুলির নেতাদের মনোভাবের কথা উপহাস করে বললেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দলীয় নেতাদের সামনে ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার শুল্কবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে এখন বহু দেশই তাঁকে ফোন করছেন এবং একটি রফায় পৌঁছতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাঁরা আমার পশ্চাৎদেশে চুমু খেতেও (Kissing my ass) রাজি আছেন।
Kissing my ass হল একটি ইংরেজি ইডিয়ম। ব্রিটিশ ইংরেজিতে একে বলা হয়- kiss someone's arse। যার অর্থ কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করা। এটি ইংরেজি অভিধানে অশ্লীল শব্দ বলে অভিহিত। আমেরিকান ইংরেজিতে তাকেই কিসিং মাই অ্যাস বলা হয়। যার আক্ষরিক অর্থ অন্য কিছু হলেও ব্যবহারিক অর্থ- হাতেপায়ে ধরা। যদিও ভাষণে ট্রাম্প কোনও দেশ বা রাষ্ট্রনেতার নাম করেননি। যদিও আমেরিকার শুল্কনীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দুদিন আগেই মার্কিন বিদেশমন্ত্রী রুবিও-র সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এছাড়াও নয়াদিল্লির বাণিজ্যমন্ত্রক কয়েকদিন ধরেই একটি রফাসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ল্যাম-এর সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ল্যাম তাঁকে জানিয়েছেন, আমেরিকা নতুন করে চুক্তি করতে রাজি হলে তাঁরা তাঁদের দেশের বহিঃশুল্ক শূন্য করে দিতে রাজি আছে। সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্টের। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তো খোদ ওভাল অফিসে এসে দেখা করে গিয়েছেন। তবে এই 'অ্যাস কিসিং' প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের তরফে কোনও ফোন কল রেকর্ড প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশেও বলেন, তিনি জানেন তিনি কী করছেন। আমি জানি, আমি কী করতে চাই। আমি এও জানি, আমি কী করছি। আপনারাও জানেন আমি কী করে চলেছি। আর সেজন্যই আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নিয়ে এসেছেন। ট্রাম্প বরাবরই ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে উদ্ধতই শুধু নন, বিভিন্ন অশ্লীল, সংস্ক়তি বর্জিত শব্দ প্রয়োগ করায় কুখ্যাত। কিন্তু এবার তাঁর অনুগামীদের একাংশও বিরক্ত হয়েছেন। এক রিপাবলিকান সমর্থক নেতা এক্স বার্তায় লিখেছেন, অন্য দেশ সম্পর্কে এই ভাষা প্রয়োগ উচিত হয়নি। আপস আলোচনার সব কৌশল তাঁর বিরুদ্ধ চলে যেতে পারে। এবং তাঁর উদ্ধত, অহংকারের মূল্য চোকাতে হতে পারে মার্কিন জনগণকে।