২০০২ সালের পর থেকে আমেরিকা আর কোনও পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা করেনি। ১৯৯২-তেই শেষবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডারগ্রাউন্ড নিউক্লিয়ার টেস্ট হয়। এতদিন পর্যন্ত মার্কিন বিজ্ঞানীরা সিমুলেশন ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পুরনো অস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 30 October 2025 11:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ ৬ বছর পর এই প্রথমবার চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তবে বৈঠকের আগে তাঁর একটি নির্দেশ ঘিরে এখন তীব্র আলোচনা। দক্ষিণ কোরিয়ায় (South Korea) নির্ধারিত বৈঠকের আগে ট্রাম্প জানান, অন্যান্য পরমাণু শক্তিধর দেশের সঙ্গে সমতায় থাকতে আবারও পারমাণবিক অস্ত্র (Nuclear Weapon) পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন - অন্যান্য দেশের পরীক্ষার কর্মসূচির কারণে আমরা আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা সমান ভিত্তিতে শুরু করছি। প্রতিরক্ষা দফতরকে তাৎক্ষণিকভাবে সেই প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি। তাঁর দাবি, রাশিয়া (Russia) দ্বিতীয় স্থানে এবং চিন (China) আরও পিছিয়ে থাকলেও পাঁচ বছরের মধ্যে তারা আমেরিকাকে পারমাণবিক শক্তিতে ধরেই ফেলতে পারে। তার জন্যই এই নির্দেশ।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) বুধবার দাবি করেছেন, তাঁদের দেশের নৌবাহিনী সফলভাবে পরীক্ষা চালিয়েছে পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন ‘পোসাইডন’ সুপার টর্পেডোর। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্ত্র সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে তেজস্ক্রিয় তরঙ্গ সৃষ্টি করে উপকূল অঞ্চল ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। এর আগে অক্টোবরের ২১ ও ২২ তারিখে ‘বুরেভেস্তনিক’ মিসাইল পরীক্ষা ও পারমাণবিক মহড়া চালায় রাশিয়া।
২০০২ সালের পর থেকে আমেরিকা আর কোনও পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা করেনি। ১৯৯২-তেই শেষবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডারগ্রাউন্ড নিউক্লিয়ার টেস্ট (Nuclear Test) হয়। এতদিন পর্যন্ত মার্কিন বিজ্ঞানীরা সিমুলেশন ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পুরনো অস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতেন।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণা স্পষ্ট করছে, ওয়াশিংটন ফের খোলাখুলিভাবে পরমাণু শক্তির প্রদর্শনে নামছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই ধরনের পরীক্ষা নতুন অস্ত্রের ক্ষমতা যাচাই এবং পুরনো অস্ত্র কার্যকর আছে কি না তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পদক্ষেপ রাশিয়া ও চিনের কাছে শক্তি প্রদর্শনের বার্তা দেবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৫ সালে নিউ মেক্সিকোর আলামোগোর্ডোতে প্রথম পরমাণু বোমা পরীক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তার পরই হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা ফেলে যুদ্ধে ইতি টানে ওয়াশিংটন।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই নির্দেশ দেওয়ার সময়ই ডোনাল্ড ট্রাম্প চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ২০১৯ সালে জি২০ সম্মেলনে শি-ট্রাম্প বৈঠকে দু’পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্ব কমিয়ে সহযোগিতার পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছিল। তখনও শি জানিয়েছিলেন, সংঘাত নয়, সমঝোতার মধ্যেই দুই দেশের লাভ। ট্রাম্পও সেই সময়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী বছরগুলিতে সম্পর্ক বারবার উত্তপ্ত হয়েছে নানা বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তে।
সেই প্রেক্ষিতে এই সাক্ষাৎ এবং বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কে অন্য মাত্রা দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।