‘ভুয়ো প্রচার’ চালানোর অভিযোগ তুলে কানাডার পণ্যে আরও ১০% শুল্ক বাড়ালেন ট্রাম্প। মোট শুল্ক এখন ৪৫%, তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 26 October 2025 10:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া সফরের আগে কড়া পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পড়শি দেশ কানাডার বিরুদ্ধে 'ভুয়ো প্রচার' চালানোর অভিযোগ তুলে তাদের পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, কানাডার বেশ কিছু পণ্যের ওপর এখন মোট শুল্ক দাঁড়াল ৪৫ শতাংশে।
রবিবার ভোরে (ভারতীয় সময়) মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সমাজমাধ্যমে কানাডা সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন ট্রাম্প।
কোন বিজ্ঞাপন নিয়ে এত বিতর্ক?
সম্প্রতি কানাডায় মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে একটি বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়েছিল। সেই বিজ্ঞাপনে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের একটি পুরনো ভাষণের কিছু অংশ ব্যবহার করা হয়।
ট্রাম্প এবং রিগান প্রেসিডেন্সিয়াল ফাউন্ডেশন উভয়েরই অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের ভাষণ ভুলভাবে উপস্থাপিত করা হয়েছে এবং এটি তৈরির সময় ফাউন্ডেশনের অনুমতি নেওয়া হয়নি।
আমেরিকার একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ১৯৮৭ সালের শুল্ক সংক্রান্ত রোনাল্ড রিগানের ভাষণ নতুন করে সম্পাদনা (এডিট) করে বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়। বিজ্ঞাপনটি কানাডা সরকার কিনে নেয় এবং আমেরিকার বহু চ্যানেলে তা সম্প্রচার করা হয়।
এই বিজ্ঞাপন নিয়ে ট্রাম্প তাঁর সমাজমাধ্যমে কানাডা সরকারকে তুলোধনা করেন। তিনি লিখেছেন, "রোনাল্ড রিগানের শুল্ক সংক্রান্ত বক্তৃতা নিয়ে একটি ভুয়ো বিজ্ঞাপন প্রচার করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে কানাডা। রিগান ফাউন্ডেশনও জানিয়েছে, এই বিজ্ঞাপন প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে বিকৃত করছে... এই বিজ্ঞাপনের একটাই উদ্দেশ্য ছিল, কানাডার সরকার ভেবেছিল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ওদের বাঁচিয়ে দেবে। কিন্তু কানাডার উচ্চ শুল্কের মোকাবিলা এখন আমেরিকা করতে পারে। জাতীয় স্বার্থে শুল্ক রিগানও পছন্দ করতেন।"
ট্রাম্পের দাবি, ভুয়ো তথ্য প্রচার করা হচ্ছে জেনেও কানাডা সরকার বিজ্ঞাপনটি তুলে নিতে কোনও পদক্ষেপ করেনি। আমেরিকা এবং কানাডা 'উত্তর আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি' (ইউএসএমসিএ)-এর অধীনে রয়েছে। এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, ৮৫ শতাংশ বাণিজ্যিক লেনদেন বিনা শুল্কে হয়ে থাকে।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন গত আগস্টে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়ামের মতো পণ্যে কানাডার বিরুদ্ধে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। নতুন করে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন সেই শুল্ক দাঁড়াল ৪৫ শতাংশে। এর ফলে কানাডার অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্প মালয়েশিয়া হয়ে এশীয়-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (APEC) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। সেখানে তাঁর চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও আলাদা করে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে।