দু'পক্ষের বার্তালাপ শুধুই কূটনৈতিক সভায় সীমাবদ্ধ নয়। কয়েক দিন আগেই দীপাবলি উপলক্ষে ওভাল অফিসে ভারতীয়-আমেরিকান আধিকারিকদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানেও মোদীর সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 5 November 2025 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) - এমনই জানাল হোয়াইট হাউস (White House)। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানান, দুই দেশের বাণিজ্যদলও (US India Trade Talks) অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় এগোচ্ছে।
লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি গভীর সম্মান রয়েছে। দু’জনেই প্রায়ই কথা বলেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে দুই দেশ খুবই গম্ভীরভাবে আলোচনা চালাচ্ছে।”
দু'পক্ষের বার্তালাপ শুধুই কূটনৈতিক সভায় সীমাবদ্ধ নয়। কয়েক দিন আগেই দীপাবলি (Diwali 2025) উপলক্ষে ওভাল অফিসে (Oval Office) ভারতীয়-আমেরিকান আধিকারিকদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানেও মোদীর সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। লেভিটের বক্তব্য, ভারত–আমেরিকা সম্পর্ককে খুবই 'ইতিবাচক' ও 'দৃঢ়' বলে মনে করছেন প্রেসিডেন্ট। একইসঙ্গে দিল্লিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর-র কাজেরও প্রশংসা করেন তিনি।
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় সফরের সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানান, ভারতের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করতে চান তিনি। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি নিয়ে দিল্লি–ওয়াশিংটন সম্পর্কে চিড় ধরেছিল। সে কারণেই গত জুলাইয়ে ভারতীয় পণ্যে মার্কিন শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়।
মস্কোর তেল রপ্তানিকারী সংস্থা রসনেফট ও লুকওয়েলে নতুন নিষেধাজ্ঞার পর ভারতীয় রিফাইনারিগুলি রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের দাবি। দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে নতুন বাণিজ্য বোঝাপড়ার পথে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন ও দিল্লি - এমন ইঙ্গিতই দিল হোয়াইট হাউস।
কদিন আগেই জানা গেছিল, মস্কোর প্রধান জ্বালানি কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন তেলের অর্ডার আপাতত স্থগিত রেখেছেন ভারতীয় ক্রেতারা। কিছু সংস্থা তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট (Spot Market) থেকে তেল কিনছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC) নতুন তেল আমদানির টেন্ডার ডেকেছে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজও স্পট মার্কেট থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার দুই বৃহত্তম তেল উৎপাদক সংস্থা - লুকঅয়েল (Lukoil) ও রসনেফ্টের (Rosneft) বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার আগের নিষেধাজ্ঞার পর এই পদক্ষেপ রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে ভারতীয় তেল ক্রেতাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে - কোন পথে সরবরাহ আসবে এবং কীভাবে অর্থ পরিশোধ করা যাবে।