শনিবার এক্স-এ হোয়াইট হাউসের (White House) প্রেস সেক্রেটারি যে প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ শেয়ার করেন, তা থেকেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 11 January 2026 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) মার্কিন বাহিনীর এক অভিযানে ‘অদেখা অস্ত্র’ ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) ধরতে চালানো ওই অভিযানের সময়ে তীব্র শব্দতরঙ্গের মতো কোনও শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে দাবি এক প্রত্যক্ষদর্শীর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই ‘অস্ত্রের’ প্রভাবে সেনাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে, কেউ কেউ রক্তবমিও করেন (bled from nose, vomited blood)।
শনিবার এক্স-এ হোয়াইট হাউসের (White House) প্রেস সেক্রেটারি যে প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ শেয়ার করেন, তা থেকেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। ওই বিবরণে ভেনেজুয়েলার এক নিরাপত্তারক্ষী জানান, অভিযানের শুরুতেই আচমকা তাঁদের র্যাডার ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। তার পর আকাশ ভরে যায় ড্রোনে। কীভাবে প্রতিরোধ করতে হবে, কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি তাঁরা।
নিউ ইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত ওই বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, মাত্র আটটি হেলিকপ্টারে করে কুড়িজনের মতো মার্কিন সেনা নামলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো এলাকা দখলে চলে যায়। সংখ্যায় অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার বাহিনী কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে। ওই নিরাপত্তারক্ষী বলেন, “ওরা প্রযুক্তিতে আমাদের চেয়ে বহু গুণ এগিয়ে। আগে এমন শত্রুর মুখোমুখি হইনি।”
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এক পর্যায়ে অজানা কোনও ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, “হঠাৎ মনে হল মাথার ভেতর থেকে ফেটে যাচ্ছে। তীব্র শব্দের ঢেউয়ের মতো কিছু একটা আঘাত করল।” তার পরই নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়, কেউ কেউ রক্তবমি করেন। অনেকেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, উঠে দাঁড়ানোর শক্তি পর্যন্ত ছিল না।
হোয়াইট হাউস (White House) অবশ্য এই দাবি আদৌ সত্য কি না, সে বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। প্রেস সেক্রেটারির পোস্টকে সরকারি স্বীকৃতি হিসেবে ধরা যায় কি না, সে প্রশ্নও এড়িয়ে গেছে প্রশাসন। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, গত ৩ জানুয়ারির ওই অভিযানে তাদের প্রায় ১০০ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তবে অজানা অস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে সেই মৃত্যুর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই বর্ণনা ‘ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপন’-এর সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মাইক্রোওয়েভ বা লেজারের মতো শক্তি ব্যবহার করে শত্রুকে অক্ষম করার প্রযুক্তি বহু দিন ধরেই সামরিক গবেষণার অংশ। এমন অস্ত্রের প্রভাবে তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণ বা সাময়িক অচল হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে বলে দাবি তাঁদের।
এই ঘটনার প্রভাব শুধু ভেনেজুয়েলাতেই সীমাবদ্ধ নেই বলেও দাবি ওই নিরাপত্তারক্ষীর। তাঁর কথায়, লাতিন আমেরিকার নানা দেশে এই অভিযান নিয়ে আলোচনা চলছে। এর পর কেউ আর আমেরিকার সঙ্গে লড়াই করার কথা ভাববে না।