
শেষ আপডেট: 28 December 2023 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিনের টানাপড়েন থামল। এতদিনের লড়াইয়ের পরে অবশেষে স্বস্তি মিলল। ফাঁসি রদ করা হল কাতারের জেলে বন্দি ৮ ভারতীয় প্রাক্তন নৌসেনা কর্মীর।
কাতারের নিম্ন আদালত ভারতের আট অবসরপ্রাপ্ত নৌ সেনা অফিসারকে ফাঁসির সাজা দিয়েছিল। গত ২৬ অক্টোবর এই সাজা ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট আদালত। কাতার আদালতের এই নির্দেশের পরই শোরগোল পড়ে যায়। ভারত সরকারের তরফে এই রায়কে “অপ্রত্যাশিত” বলা হয়। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের পরিবারের অনুরোধে ভারত সরকার কাতারের আদালতে রায় পুনরায় বিচার করার আর্জি জানিয়েছিল গত সপ্তাহে। সেই আর্জি মঞ্জুর করা হয়েছে বলে দিল্লির পররাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছিল। তারপরেও উদ্বেগ কাটেনি। অবশেষে জানা গেল, ভারতীয় নৌসেনা অফিসারদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা খারিজ করেছে কাতারের নিম্ন আদালত। বদলে তাঁদের কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গত বছর গ্রেফতার করা হয় ওই আট ভারতীয়কে। এরপর থেকে তাঁদের নিভৃত কারাবাসে রাখা রয়েছিল।
এই আট নৌসেনা অফিসার কারা?
২০২২ সালের ৩০ অগস্ট ভারতীয় নৌসেনার ওই আট অফিসারকে গ্রেফতার করা হয়। যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁদের মধ্যে ছিলেন--কম্যান্ডার পূর্ণেন্দু তিওয়ারি, কম্যান্ডার সুগুনাকর পাকালা, কম্যান্ডার অমিত নাগপাল, কম্যান্ডার সঞ্জীব গুপ্তা, ক্যাপ্টেন নভতেজ সিং গিল, ক্যাপ্টেন বীরেন্দ্র কুমার ভর্মা, ক্যাপ্টেন সৌরভ বশিষ্ঠ ও নাবিক রাগেশ গোপাকুমার। এরা সকলেই প্রায় ২০ বছর ধরে ভারতীয় নৌসেনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৯ সালে কম্যান্ডার পূর্ণেন্দু তিওয়ারিকে প্রবাসী ভারতীয় সম্মানেও সম্মানিত করা হয়। বিদেশের মাটিতে ভারতের নাম উজ্জ্বল করার জন্যই এই পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছিল তাঁকে।
জানা যায়, ওই আট ভারতীয় নৌসেনা অফিসার কাতারের দোহায় দাহরা গ্লোবাল টেকনোলজি অ্যান্ড কনসালটেন্সি সার্ভিস নামক একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। মূলত কাতারের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ছিল এই সংস্থা।
ভারত সরকারের অভিযোগ, ওই আটজন প্রাক্তন নৌসেনার কর্মীকে কী কারণে কাতার পুলিশ গ্রেফতার করেছিল, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও তথ্য জানানো হয়নি। তবে কাতারের দাবি, অভিযুক্তরা অত্যন্ত গোপনীয় ও সংবেদনশীল তথ্যের আদানপ্রদান করছিল। এনেক গুপ্ত খবর নাকি তারা বাইরে পাচার করেছিল। ইতালিয়ান প্রযুক্তিতে তৈরি সাবমেরিন তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওই অফিসাররা। এই সাবমেরিন কাতারের নৌসেনা ব্যবহার করে। ওই প্রকল্পে কাজ করার সময়ই ভারতের প্রাক্তন নৌসেনা অফিসাররা গুপ্তচরবৃত্তি করতেন বলে দাবি করা হয়।
গত ৩০ অগস্ট গ্রেফতার করা হলেও, তাদের দীর্ঘদিন নিভৃত কারাবাসে রাখা হয়েছিল। চলতি বছরের ২৫ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।