
শেষ আপডেট: 13 November 2023 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করাচি বিমানবন্দরে সারি সারি চিনা সাবমেরিন। উপগ্রহ চিত্র দেখে সত্যিই চমকে গেছে ভারতীয় নৌসেনা। পাকিস্তানের বন্দরে এর আগেও বহুবার চিনা জাহাজকে ঘুরঘুর করতে দেখা গেছে। কিন্তু এবার খানকয়েক নিউক্লিয়ার সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ করাচি বিমানবন্দরে নোঙর করে রেখেছে চিন। ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েকশো কিলোমিটার দূরের ওই পাক বন্দরে চিনা পরমাণু সাবমেরিনের উপস্থিতি মোটেই অবজ্ঞা করার মতো বিষয় নয়, মানছে ভারতীয় নৌসেনাও।
উপগ্রহচিত্র থেকে যে সাবমেরিনটিকে করাচিতে দেখা গিয়েছে, সেটি চিনা নৌসেনার হাতে আসা টাইপ ০৯১ ‘হান’ ক্লাস নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন। তাছাড়া টাইপ ৫২ডি ডেস্ট্রয়ার, দুটো ৫৪ ফ্রিগেট ও টাইপ ৯০৩ রিপ্লেনিশমেন্ট অয়েলারকে করাচি বন্দরে দেখা গেছে। চিনা নৌসেনার হাতে থাকা নিউক্লিয়ার সাবমেরিনগুলির মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী যে টাইপ ০৯৩ ‘শ্যাং’ ক্লাস সাবমেরিন, করাচিতে নোঙর করা সাবমেরিনগুলি সেই গোত্রেরও হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনগুলি কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে, তা নির্ভর করে জ্বালানির উপর। কিন্তু নিউক্লিয়ার সাবমেরিনে যে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর থাকে, তাতে সচরাচর জ্বালানি ভরতে হয় না। সেখানে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই পরমাণু শক্তি উৎপন্ন হয় এবং সেই কারণে এই ধরনের সাবমেরিনকে যত দূরে খুশি পাঠিয়ে দেওয়া যায়। চিন সাগর থেকে মালাক্কা প্রণালী, আন্দামান সাগর, শ্রীলঙ্কা উপকুল এবং আরব সাগর হয়ে সোজা পাকিস্তানের করাচি পর্যন্ত নিউক্লিয়ার সাবমেরিন পাঠিয়ে দেওয়া কোনও সমস্যার বিষয় নয়।
Vessel YANGCHENGHU a suspected PLA NAVY TYPE 926 Submarine Support Vessel, is currently approaching Karachi, it was tracked from China's Hainan Naval base & is likely en-route to Pakistan for the upcoming China-Pakistan Joint Naval Drills pic.twitter.com/04vJQY4reF
— Damien Symon (@detresfa_) November 8, 2023
করাচি বন্দরে কেন চিনা সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ ঘোরাঘুরি করছে সে নিয়ে আলোচনা চলছে ভারতীয় নৌসেনার অন্দরে। নিউক্লিয়ার সাবমেরিন অত্যন্ত কম শব্দ করে জলের তলা দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এর উপস্থিতি সহজে টের পাওয়া যায় না। তাই এই সাবমেরিনকে কাজে লাগিয়েই ভারতীয় নৌসেনার সমস্ত গতিবিধির উপর চিন গোপনে নজর রাখতে চাইছে বলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এর আগে আন্দামানের খুব কাছে চিনা সাবমেরিনের উপস্থিতি টের পাওয়া গিয়েছিল। ভারত মহাসাগরে চিনা সাবমেরিনের আনাগোনা বেড়ে চলার বিষয়টির উপর কড়া নজর রাখছে ভারত। কখনও বঙ্গোপসাগরে, কখনও ভারত মহাসাগরে চিনা নৌবাহিনীর জাহাজকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। সাবমেরিন নিয়েও টহল দিচ্ছে চিনের নৌসেনা। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপের কাছেও চিনের নজরদারি জাহাজকে ঘুরঘুর করতে দেখা গিয়েছিল।
ভারতীয় নৌসেনা সূত্র জানাচ্ছে, চিনা জাহাজগুলি সর্বক্ষণ নজরদারি চালাচ্ছে। চিন আগে কখনও নিজেদের জলসীমার বাইরে যুদ্ধজাহাজ বা নজরদারি জাহাজ খুব একটা পাঠাত না। কিন্তু, ২০০৮ সালে এডেন উপসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের উপদ্রব বাড়লে চিনের নৌবাহিনীও ওই এলাকায় যাতায়াত শুরু করে। ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্তারা বলছেন, সোমালিয়ার জলদস্যুদের মোকাবিলার জন্য এত বড় ব্যবস্থার দরকার নেই। আসল উদ্দেশ্য এই তল্লাটের সাগরের সঙ্গে নিজের জাহাজ ও কম্যান্ডার-ক্যাপ্টেনদের পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করা।
গোয়েন্দা সূত্র আরও বলছে, প্রতিবার রণতরী বা সামরিক ডুবোজাহাজ পাঠায় না চিন। বরং নজর এড়াতে পর্যায়ক্রমে একবার সাধারণ জাহাজ আর একবার সামরিক ডুবোজাহাজ পাঠায় তারা। ২০১৭ সালে ভারত মহাসাগরে চিনা নৌবাহিনীর ১২টি বহর দেখা গিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল তৃতীয় শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী লুয়াং জাহাজ, ডুবোজাহাজে সরঞ্জাম সরবরহকারী জাহাজ চোংমিংদও।