বাংলাদেশস্থিত চিনা দূতাবাস কড়া সতর্কতা জারি করল নিজের দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 26 May 2025 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেজিংয়ের বর ও বাংলাদেশি কনে। বাংলাদেশি ‘কনে কেনা’ চলবে না। বাংলাদেশস্থিত চিনা দূতাবাস কড়া সতর্কতা জারি করল নিজের দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে। দেশের বাইরে থেকে বিয়ের নামে মেয়ে পাচার করে নিয়ে আসার চক্র ভাঙতে বাংলাদেশে বসবাসকারী চিনা নাগরিকদের এই পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। একইসঙ্গে অনলাইন ঘটক বা যুগল-বন্ধনী ফাঁদে না পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, চিনা নাগরিকদের দেশের বাইরের বাংলাদেশি মেয়েদের সঙ্গে ডেটিং, সম্বন্ধ পাতানো এবং অবশেষে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া বা গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ ধরনের শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মের জালে জড়িয়ে না পড়ার নির্দেশ দিয়েছে বেজিং প্রশাসন।
স্পষ্ট ভাষায় সতর্কীকরণ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিদেশি স্ত্রী গ্রহণ করার অবৈধ সমস্ত রকমের অবৈধ যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক রাজযোটক তৈরির সংস্থাগুলির প্রলোভন থেকে বিরত থাকতে। একইসঙ্গে চিনা নাগরিকদের পয়সা খরচ করে বিদেশি বউ কেনা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের কোনও মেয়েকে বিয়ে করার আগে দশবার ভাবতে বলেছে চিনের প্রশাসন।
বেজিং প্রশাসনের এই নির্দেশিকার পিছনে আছে বাইরে থেকে নারী পাচার রোধ। বর্তমানে বাতিল এক সন্তান নীতি এবং দম্পতিদের মধ্যে অতিরিক্ত পুত্রকামনার জন্য বিদেশে বিয়ে করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই কারণেই চিনে পুরুষ-নারীর আনুপাতিক ভারসাম্য বিরাট ধাক্কা খাচ্ছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, চিনে বর্তমানে ৩ কোটি অবিবাহিত পুরুষ আছেন। যাঁদের ‘উচ্ছিষ্ট পুরুষ’ বলে দেশে উপেক্ষার দৃষ্টিতে দেখা হয়।
দ্য ডেইলি স্টার সম্প্রতি খবরে জানিয়েছে, এই খামতি পূরণে বাংলাদেশি মেয়েদের অবৈধভাবে চিনে বিয়ের নামে বিক্রি করা হচ্ছে। অপরাধী চক্র এভাবে সেদেশে নারী পাচার করছে। চিনা দূতাবাস বলেছে, প্রেমের ফাঁদে পড়া অথবা বিয়ের কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাওয়া ব্যক্তিরা যেন চিনের পাবলিক সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অবিলম্বে যোগাযোগ করেন। যাঁরা এরকম করেছেন তাঁদের মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হবে।