
শেষ আপডেট: 23 December 2023 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে চিন, এমন রিপোর্ট আগেই দিয়েছিল পেন্টাগন। এবার উপগ্রহ চিত্রে যা ধরা পড়ল তা চমকে দেওয়ারই মতো। পাহাড়ি খাঁজে গোপনে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা করছে চিন? স্যাটেলাইট ইমেজ দেখে তেমন সম্ভাবনার কথাই জানাচ্ছেন গোয়েন্দারা।
দেশের উত্তর-পশ্চিমের স্বতন্ত্র শিনজিয়াং প্রদেশে পরমাণু সামরিক তৎপরতা তুঙ্গে। সেখানে চিন পরমাণু শক্তি পরীক্ষাকেন্দ্র গড়ে তুলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যে গতিতে কাজ চলছে, তাতে শীঘ্রই সেখানে চিন পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করতে পারে বা সাবক্রিটিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট অর্থাৎ রাসায়নিক বিস্ফোরক ব্যবহার করে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
আমেরিকার নিউ ইয়র্ক টাইমস এই রিপোর্ট সামনে এনেছে। একাধিক উপগ্রহ চিত্রে লালফৌজের সেই তৎপরতা ধরা পড়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে হঠাৎ করেই লপ নুরে বিরাট বিরাট যন্ত্রের আমদানি করা হয়েছে। ওই অঞ্চলে তৈরি করা হয়েছে বিশাল সেনাঘাঁটি। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছে চিন। ধারণা করা হচ্ছে, বেশকিছু ব্যালিস্টিক এবং জাহাজ থেকে ছোড়ার মতো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে চিন। এবার সেগুলো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দীর্ঘ দিন ধরেই একটু একটু করে নিজেদের অস্ত্রভান্ডারের শক্তি বাড়াচ্ছে চিন। কিন্তু যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তারা এগোচ্ছে তাতে বিশ্বের অন্য দেশগুলির দুশ্চিন্তা বাড়ছে। পেন্টাগন আগেই দাবি করেছিল, সেনার পাশাপাশি নৌ, বিমানবাহিনীকেও পরমাণু শক্তিধর করার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে বেজিং।
পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করার জন্য যে ভিত্তি দরকার, জলে-স্থলে সেই নির্মাণকাজও শুরু করেছে তারা। সমুদ্র এবং আকাশ থেকে যাতে সহজেই পরমাণু হামলা চালানো যায় তারও কাজ শুরু করে দিয়েছে চিন। এমনিতেই ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের সঙ্গে একটা টানাপড়েনের আবহ তৈরি হয়েছে ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের মতো দেশগুলির সঙ্গে। অন্য দিকে দক্ষিণ চিন সাগরেও আমেরিকার সঙ্গে চিনের একটা ঠান্ডা যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আমেরিকার দাবি, বেজিং বরাবরই গোটা বিশ্বকে বলে এসেছে যে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার বেশি পরমাণু অস্ত্র তারা বানাবে না। অথচ গত বছর থেকে তাদের অস্ত্র ভান্ডারে বিপুল সংখ্যক পরমাণু অস্ত্র যোগ হতে শুরু করেছে। নিজেদের পরমাণু অস্ত্রের ভান্ডার এ ভাবে বাড়াতে থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে অন্তত দেড় হাজার পরমাণু অস্ত্র থাকবে। যা বর্তমান সংখ্যার প্রায় তিন গুণ।