ইরান গত বছরের জুলাইয়ে চিনের সঙ্গে তেলের বিনিময়ে অস্ত্র চুক্তির অংশ হিসেবে এই HQ-9B সিস্টেমটি কিনেছিল, দেশটির আকাশসীমা শক্তিশালী করার উদ্দেশে। সেই সময়ে ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত যুদ্ধের পর এই ব্যবস্থা রুশ S-300-এর ঘাটতি পূরণে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 March 2026 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন কোনও সরাসরি যুদ্ধে (China Arms) জড়িত নয়, তবু তার তৈরি সামরিক প্রযুক্তি এবার কঠোর পরীক্ষায় পড়েছে। বিশ্ববাজারে বেজিংয়ের এক অন্যতম জনপ্রিয় রক্ষা ব্যবস্থা HQ-9B (China HQ-9B) এখন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গত এক বছরে ধারাবাহিকভাবে দুইটি প্রকৃত সংঘাতে এটি সফলতার মানদণ্ডে দাঁড়াতে পারেনি, হতাশ করেছে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে মার্কিন ও ইজরায়েলি বিমান হামলার (Iran-Israel Conflict) সময় এটিকে লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরান গত বছরের জুলাইয়ে চিনের সঙ্গে তেলের বিনিময়ে অস্ত্র চুক্তির অংশ হিসেবে এই HQ-9B সিস্টেমটি কিনেছিল, দেশটির আকাশসীমা শক্তিশালী করার উদ্দেশে। সেই সময়ে ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত যুদ্ধের পর এই ব্যবস্থা রুশ S-300-এর ঘাটতি পূরণে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমেরিকা ও ইজরায়েলের সমন্বিত আকাশ হামলার সময় এটি হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে।
ইরানে HQ-9B প্রধানত তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা নতাঞ্জ ও ফরডো অঞ্চলে মোতায়েন ছিল। তবুও বহু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে এটিকে কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি, ফলে এর বাস্তব যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের ৩১টি প্রদেশের অন্তত ২০টিতে বিমান হামলা আঘাত হানে এবং উল্লেখযোগ্য অপূর্ণতা দেখা দেয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। বহু অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদ ছড়িয়েছে।
এই ব্যর্থতা নতুন নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে যখন ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরপর আঘাত হানছিল, তখনও পাকিস্তানে HQ-9B সঠিকভাবে স্থাপিত লক্ষস্থান রক্ষা করতে পারেনি। পাকিস্তান এয়ারবেস ও শহরগুলোর সুরক্ষায় সিস্টেমটি ব্যবহৃত হলেও ভারতের হামলা তা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, এক পর্যায় অনেক অংশ ভগ্নপ্রায় অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল।
চিনের ওই সিস্টেমের ডিজাইন রাশিয়ার S-300PMU ও মার্কিন প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের অনুকরণে উন্নত হয়েছে। কারিগরি বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্য ট্র্যাক করার ক্ষমতা ও একাধিক লক্ষ্যবস্তুর প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে এই দিকগুলি যথাযথভাবে কাজ করেনি।
বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, এটি প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, নাকি আধুনিক সামরিক যন্ত্রপাতির সামনে সম্পূর্ণ অপ্রতুলতা? সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা চিনের প্রতিরক্ষা রফতানির বিশ্বাসযোগ্যতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।